1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৯:১৩ অপরাহ্ন

রাজধানী‌তে গো‌য়েন্দা পু‌লিশ ও ছিনতাইকারী‌দের ম‌ধ্যে গোলাগু‌লি – নিহত ২

নাগ‌রিক অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ মে, ২০২১
  • ৭৬১ বার পঠিত

রাজধানীর খিলক্ষেতে গোয়েন্দা পুলিশ ও সশস্ত্র ছিনতাইকারী দলের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং গোলাগুলির ঘটনায় দুইজন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। এ ঘটনায় এনামুল ও রাসেল নামে দুই ছিনতাইকারীর মৃত্যু হয় এবং ২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদেরকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- নয়ন এবং ইয়ামিন। এ সময়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সিএনজি ১ টি, বিদেশি পিস্তল ১টি, দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি ম্যাগাজিন ১ টি, কাঠের বাটযুক্ত ছুরি ১ টি, টাইগার বাম ২ টি, সবুজ রঙের গামছা ১ টি, মোবাইল ৯ টি, ইয়াবা ১৬ পিস, একটি লাইটার ও নগদ ৫০০০ টাকা উদ্ধার করেন।

১৭ মে ২০২১ তারিখ দিবাগত রাত ০২:০০ টায় খিলক্ষেত থানা এলাকায় গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের একাধিক টিম এবং খিলক্ষেত থানা পুলিশের সমন্বিত দলের সাথে সিএনজি দিয়ে সশস্ত্র ছিনতাইকারী দলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং গোলাগুলির  এ ঘটনা ঘটে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পবিত্র রমজান ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। ঢাকার ভেতরে গভীর রাতেও এই যাওয়া-আসা অব্যাহত ছিল। গভীর রাতে শহরে বাস-মিনিবাসের মতো গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনেক সময় সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং মালবাহী ছোট পিকআপও যাত্রী আনা-নেওয়া করে থাকে। ছিনতাইকারী ও ডাকাত  চক্র গণপরিবহনের এই স্বল্পতাকে কাজে লাগিয়ে রাইড শেয়ারের নামে মানুষের সর্বস্ব ডাকাতি করে  নিয়ে যাচ্ছে এবং এই  ডাকাতির ঘটনায় দু’ একজন নিরাপরাধ ভিকটিমকে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে মর্মে তথ্য পায় গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষনে ঈদ ফেরত নগরবাসীকে কেন্দ্র করে অপরাধীচক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে মর্মে জানতে পারে গোয়েন্দা পুলিশ। ছিনতাই, ডাকাতি প্রতিরোধে ডিএমপির গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের একাধিক  টিম কুড়িল-বিশ্বরোড ফ্লাইওভার,  খিলক্ষেত, কাওলা, ঢাকা-ময়মনসিংহ রোড ও পূর্বাচলগামী ৩০০ ফিট রাস্তায় টহল জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাত ১২.৩০ টায় থেকে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের একাধিক টিম খিলক্ষেত থানা পুলিশের সঙ্গে নিরাপত্তা টহল দিচ্ছিল। ডিবি পুলিশের একটি দল কাওলা হয়ে পূর্বাচলগামী ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখে, দ্বিতীয় দলটি পূর্বগামী ফ্লাইওভারের মাঝে অবস্থান নিয়ে তল্লাশি করছিল। রাত অনুমান ০২:১৫ টার দিকে কাওলা থেকে বিশ্ব রোডের দিকে একটা সবুজ রঙের সিএনজি কয়েকজন লোককে নিয়ে যাচ্ছিল। তল্লাশী কাজে নিয়োজিত পুলিশের সদস্যরা সিএনজিটি থামানোর ইশারা দিলে সেটি দ্রুত বেগে ৩০০ ফিট ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে পূর্বাচলের দিকে পালিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশের এই দলটি ওয়ারলেসের মাধ্যমে ব্রীজের মাঝে থাকা ২য় দলকে সতর্ক করলে তারা তাদের মাইক্রোবাসকে আড়াআড়ি দাঁড় করিয়ে দেয় এবং প্রথম দলটি সিএনজিটিকে ধাওয়া করতে থাকে।

কিছুক্ষণ পরে ব্যারিকেটেড সিএনজি থেকে দুইজন অপরাধী নেমে দৌড়ে সামনে যেতে থাকে এবং পুলিশের একটি মাইক্রোবাস আড়াআড়ি দেখে সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ডিবি পুলিশের একটি মাইক্রোবাসের বাম দিকের কাঁচ ভেঙে যায়। নিজেদের জীবন, সরকারি অস্ত্র’ ও অন্যান্য মালামাল রক্ষার্থে আক্রান্ত মাইক্রোবাসটি থেকে ডিবি পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এসময় অপরাধী এবং পুলিশের  মধ্যে ধাওয়া – পাল্টা ধাওয়া এবং গুলি-পাল্টা গুলি চলে। এক পর্যায়ে পর্যায়ে গুলি থেমে গেলে সবুজ রঙের একটি সিএনজি অটোরিকশাকে ফ্লাইওভারের সাথে ধাক্কা খাওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। উক্ত সিএনজি হতে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ফ্লাইওভারের উপরে  আরো দুইজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। আহতদের একজনের ডান হাতের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল এবং দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিন ও দেহ তল্লাশী করে ৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অপর জনের হাত থেকে একটি পুরাতন কিন্তু ধারালো ছুরি ও দেহ তল্লাশী করে ৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্তদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়াও গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত হতে ৯টি মোবাইল, ৭ পিস ইয়াবা এবং, মলম ও  গামছা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় সিএনজির ড্রাইভার ছিল নয়ন এবং পাশের সিটে বসেছিল ইয়ামিন। পুলিশের দুটি মাইক্রোবাসের দ্বারা ব্যারিকেটেড হওয়া সিএনজির পিছনে বসা এনামুল ও রাসেল নেমে পালাচ্ছিল এবং সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পুলিশের গাড়ি লক্ষ করে গুলিবর্ষণ করেন।

আরো জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা ইতোপূর্বের মত গতকালও টঙ্গীর মধুমিতায় একত্রিত হয়ে প্রথমে আব্দুল্লাহপুর খন্দকার পেট্রোল পাম্পে আসে। সেখান থেকে উপযুক্ত মক্কেল না পেয়ে বিমানবন্দর হয়ে কাওলার দিকে আসতে থাকে। উদ্দেশ্য ছিল ঢাকার অভ্যন্তরে গমনাগমনকারী একক ব্যক্তি যার কাছে মূল্যবান সামগ্রী এবং টাকা-পয়সা থাকে তাকে সিএনজিতে তুলে তার সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়া।

তারা মূলত গামছা এবং মলম দিয়েই নিরীহ মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নিতো। ভিকটিম জোরজবরদস্তি করলে তাকে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে ফেলে দিত। পুলিশের দ্বারা বা অপর সন্ত্রাসী গ্রুপের দ্বারা আক্রান্ত হলে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য তারা সিএনজিতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং ছুরি বহন করতো। গ্রেফতারকৃত এবং নিহতদের বিরুদ্ধে  ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যাসহ মাদকের একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় পৃথক পৃথক তিনটি মামলা রুজু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com