1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ০৭:২৩ অপরাহ্ন

৪ বছ‌রের বাচ্চা‌কে ধর্ষণ‌ের চেষ্টায় নিষ্ঠুরতা :‌চিৎকার শু‌নে প্রাণ বাচাঁল পু‌লিশ

ডেস্ক রি‌র্পোট:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০
  • ২১৩ বার পঠিত
ধর্ষক

ব্লেড দিয়ে ৪ বছরের বাচ্চার যৌনাঙ্গ কাটতেছিলো বড় করার জন্য আর মেয়েটি চিৎকার করতেছিলো। মাগো বলে একটা চিৎকার দেবার পরেই মুখ চেপে ধরে ৫৫ বছর বয়স্ক এই নরপিশাচ।দোকানের শাটার এর ফাঁকা দিয়ে এতোটুকুই দেখতে পেয়েছিলাম আমি।তারপর আমি চিৎকার দিয়ে শাটারে লাথি মারতে থাকি। লোকজন জড় হয়। উলটা শাটারে লাথি মারার জন্য আমাকেই দোষারোপ করতে থাকে। ভেতরে কি চলছে বলতেই দিচ্ছে না আমাকে।

ঐদিন আমার অফিস শেষে তানভীর আর অনিক এর সাথে আড্ডা দেবার জন্য প্রতিদিনের মতই খিলগাঁও থানায় য‌া‌চ্ছিলাম। পথিমধ্যে ভুইয়াপাড়া দিয়ে আসার সময় বাচ্চার চিৎকারে থেমে যাই। ঐ ঘটনা দেখার পরে সাথে সাথে আমার খিলগাঁও থানার ব্যাচমেট তানভীরকে ফোন দেই। ভাগ্য ভালো আমার যে ওরা দুই মিনিটেই এফবি ইনবক্সে শেয়ার করা লোকেশনে চলে আসে। না হলে ওখানকার লোকজন আমাকেই দোষী বানিয়ে দিত।

আমি তৎক্ষনাৎ দৌড়ে গিয়ে পেছনের ছোট বের হবার দরজা বন্ধ করে দেই। তানভীন আর অনিক সামনে থেকে নক করতে থাকে। তারপর ও বেরিয়ে আসে। ভেতর থেকে আমরা হাত বাঁধা ৪ বছরের বাচ্চা মেয়েটাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করি।

ভিক্টিমের বাবা মা আসলে আরো ৩ টা বাচ্চা মেয়ে (৫ বছরের, ৭ বছরের, ৯ বছরের) এসে আমাদের বললো যে গতদিন এবং ঘটনার দিন সকালে ওদের কে কিন্ডারজয় চকলেটের লোভ দেখিয়ে ঐ পরিত্যক্ত দোকানের মধ্যে নিয়ে যেয়ে ওদের সাথে পঁচা কাজ করতো।

অনিক আসামীকে থানায় রেখে আসলো।আমি আর তানভীর বাচ্চাগুলো কে নিয়ে ডি এম সি এর ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গেলাম।ওখান ওদের এডমিট করা হলো এবং রিপোর্ট নিয়ে থানায় গিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ মামলা রুজু করা হলো।

তানভীর ১৬৪ করায়া নিয়া আসছে। এইটা ওর অনেক বড় সফলতা। আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যে সব তথ্য বেরিয়ে আসছিলো তাতে আমরা তিনজন ই ভয় পেয়ে যাই। এতো বাজে হয় কিভাবে মানুষ? আর এই মানুষটাকে বাঁচাতে যে সব নেতা ফোন দিয়েছিলেন আপনাদের ধিক্কার জানাই। অন্যায়ের সাথে আমরা আপোষ করি না। মাদক, ধর্ষণ এর ব্যাপারে কোন আপোষ নাই। এই ব্যাপারে আমার বাবার ফোন ও আমি সুন্দর ভাবে ইগ্নোর করে যাবো৷ নিজেদের মেয়ের বেলায় যেদিন হবে সেদিন বুঝবেন আসলে কষ্টটা কোথায়। আর আমি গর্বিত তোদের মতো সাহসী বন্ধু পেয়ে অনিক এবং তানভীর। তোদের মত অফিসার সাথে থাকলে আমার পক্ষে যে কোন কঠিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব। আমরা পারবোই। ইন শা আল্লাহ

Macksudul Hasan Hridoy (SUB INSPECTOR)
( 9, Oct 2020)

(আইনের থেকেও সব চেয়ে বেশী দরকার সচেতনতা। এরকম সচেতন মানুষগুলোই পারবে দেশটাকে বদলে দিতে, সৃষ্টিকর্তা এই মানুষগুলোকে দীর্ঘজীবী করুন যেন অপরাধীদের ধ্বংস করতে পারে )

Source: Charu Diary

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com