1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন

প্রেমি‌কের সঙ্গে পা‌লি‌য়ে যাওয়া কি‌শোরী‌কে বি‌য়ে ক‌রলেন ৬০ বছ‌রের চেয়ারম‌্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১
  • ৫৩০ বার পঠিত

প্রেমের টানে বাড়ি ছেড়েছিলেন পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের প্রেমিক প্রেমিকা । এই ঘটনার বিচা‌রের জন‌্য কি‌শোরীর বাবা চেয়ারম‌্যা‌নকে সুরহা করার জন‌্য ডাক‌লে কিশোরীকে দেখে পছন্দ হওয়ায় খোদ চেয়ারম্যানই বিয়ে করে ফেললেন। ইউপি নির্বাচনে গত ২১ জুন কনকদিয়া ইউনিয়নের দ্বিতীয়বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের (৬০) এমন কাণ্ডে অবাক হয়েছেন এলাকাবাসী। এ চেয়ারম্যান আবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরও সভাপতি। এর আ‌গেও শা‌হিন হাওলাদার বাউফল এক কৃ‌ষি কর্মকর্তা‌কে মারধ‌রের অ‌ভি‌যো‌গে গ্রেফতার হ‌য়ে‌ আ‌লোচনায় ছি‌লেন।

শুক্রবার (২৫ জুন) ওই কিশোরীকে কাজীর মাধ‌্যমে বি‌য়ে ক‌রেন শাহীন হাওলাদার ৬০ বছর বয়‌সে এমন বি‌য়ের ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃ‌ষ্টি হ‌লে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়‌টি‌কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কর‌ছেন।এদিকে সালিশে এমন বিচার দেখে কিশোরীর সঙ্গে পালানো তরুণ (২৫) আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শুক্রবার রাত থেকে তরুন বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চি‌কিৎসাধীন র‌য়ে‌ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপাশা গ্রামের এক তরুণের সঙ্গে একই ইউনিয়নের ওই কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো দীর্ঘদিন ধরে। কিশোরী স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি মেয়ের বাবা। প্রেমিক-প্রেমিকা গত তিন দিন আগে বাসা থেকে পালিয়ে গেলে কিশোরীর বাবা তাদেরকে পাশের বাড়ির এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ধরে নিয়ে আসেন। সেই সঙ্গে বিষয়টি সমাধানের জন্য চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানান।

শাহিন হাওলাদার শুক্রবার ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ ডাকেন। বৈঠকে দুই পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ওই তরুণ কেন কিশোরীকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলো এর কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে বৈঠকে কিশোরীকে দেখে পছন্দ হয়ে যাওয়ায় অভিভাবকের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। মেয়ের বাবা বিয়েতে সম্মতি প্রকাশ করলে ওইদিন বাদ জুমা চেয়ারম্যানের আয়লা বাজারের বাসায় কাজি ডেকে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করেন।

তবে সালিশের কথা অস্বীকার করে চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদার দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিলো। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানা ছিলো সবার। আমার বিয়ের প্রয়োজন থাকায় সবাইকে অবগত করেছি। একপর্যায়ে গত ২১ জুন নির্বাচনে জয়ী হয়ে ওইদিন রাতেই তার সঙ্গে বিয়ের কাবিন করেছি। পরে পারিবারিকভাবে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে তাকে আমার ঘরে নিয়ে আসি। বিয়েতে উভয়পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলো।

তিনি বলেন, কনকদিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজি স্থানীয় মুছা মাওলানার ছেলে বিবাহ সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু তার নাম বলতে পারেননি চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, এই মুহূর্তে তার নাম আমার মনে নেই। আমার নিকটাত্মীয় হাফেজ আবু সাদেক বিয়ের সময় দোয়া ও মিলাদ পড়িয়েছেন।

জানতে চাইলে হাফেজ আবু সাদেক জানান, কাবিন ও বিয়ে শুক্রবারই হয়েছে। কিন্তু চেয়ারম্যান যে বলেছেন, ‘২১ জুন কাবিন হয়েছে’ এমন প্রশ্নের জবাবে হাফেজ সাদেক বলেন, সেটা তিনিই ভালো জানেন। আমি শুক্রবার তাদের পাঁচ লাখ টাকা কাবিন করিয়েছি। আমার কাছে কাগজপত্রসহ প্রমাণ আছে। সেখানে মেয়ের বাবা, চাচা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে, এটি তো বাল্যবিয়ের মধ্যে পড়ে, বিষয়টি যাচাই করেছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সাদেক হোসেন জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মসনদ দাখিল করেছে। সেখানে তার বয়স ১৮ দেখানো হয়েছে। তা দেখেই কাবিন করিয়েছি। তাছাড়া সেখানে মেয়ে ও মেয়ের বাবা-চাচাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকায় আমরা বিস্তারিত যাচাই করিনি।

একই প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার জানান, সে তিন বছর আগে নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। বর্তমানে সে লেখাপড়া করে না। জন্মসনদ অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ২০০৩ সালের ১১ এপ্রিল।

তবে জন্ম তারিখের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে ওই কিশোরীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র জানান, সে বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী। শুক্রবার চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ের ঘটনা কিছুক্ষণ আগে লোকমুখে শুনেছেন এবং তিনি অবাক হয়েছেন এতে।

কিশোরীর বাবা বলেন, সালিশে আমি বলেছি, আজকে যদি এর একটা ব্যবস্থা না হয় তাহলে আমি আর মেয়ে নেবো না (ওই ছেলের সঙ্গে দিয়ে দেবে)। এ কথার জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ‘তাহলে আপনার মেয়েকে আমার কাছে দিয়ে দেন, মেয়েকে আমি নিয়ে যাই’। রাগের মাথায় আমি বলেছি, আপনি নিয়ে যান। এতে যে এ ঘটনা ঘটবে আমি তা বুঝতে পারিনি।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, লোকমুখে ঘটনা শুনেছি। তবে মেয়ের পক্ষ থেকে কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। যদি বাল্যবিয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন জানান, মেয়ের বয়স নির্ধারণ নিয়ে ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই শুরু করেছি। তার জন্মসনদ এবং স্কুলের সার্টিফিকেট সবকিছু আমরা সংগ্রহ করেছি।

বিতর্ক‌িত চেয়ারম‌্যান শাহীন হাওলাদার এর আ‌গে  সরকা‌রি দায়িত্ব পালনকালে গত বছ‌রের ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকালে কনকদিয়া বাজারের বানী ফার্মেসীর সামনে  উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আনছার উদ্দিন মোল্লাকে মারধর করার অ‌ভি‌যো‌গে তার বিরু‌দ্ধে মামলা দা‌য়ের করা হয়। উক্ত মামলায় গ্রেফতার হ‌য়ে জেলে ছি‌লেন ব‌লেও জানায় স্থানীয় এক ইউ‌পি সদস

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com