1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

অনলাইনে চেক নিষ্পত্তি ও অর্থ স্থানান্তর করা যাচ্ছে না

নাগরিক অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৯২ বার পঠিত

বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলে সমস্যা হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে স্বয়ংক্রিয় চেক নিষ্পত্তি ও অনলাইন অর্থ স্থানান্তর বা ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি)। বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি সার্ভারের একটি মতিঝিলে ও অন্যটি মিরপুরের বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিবিটিএ)। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার একটিতে সংযোগে বিপত্তি ঘটে। এরপর থেকেই চেক নিষ্পত্তি ও অনলাইন অর্থ স্থানান্তর হচ্ছে না। এর ফলে সোনালী ব্যাংকের চেক অন্য ব্যাংকে জমা দিলে এখনই তা নিষ্পত্তি হবে না। পাশাপাশি সোনালী ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে অনলাইনে তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তর করা যাচ্ছে না। এখন কেউ করলে পরে যখনই সিস্টেম চালু হবে তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তবে চালু আছে রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট বা আরটিজিএস। ফলে আন্তব্যাংক লেনদেন একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে এটা হয়েছে। প্রথমে সিদ্ধান্ত হয় কোনো ব্যাংক খোলা রাখা হবে না। তখন হলিডে ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই ঘোষণা অনুযায়ী সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আবার যখন ব্যাংক খোলার ঘোষণা এলো তখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি আজকের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, ব্যাংক বন্ধ থাকবে ‘সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর আগে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ দুটি লেনদেন ব্যবস্থায় আগে থেকে আদেশ দিয়ে রাখতে হয় কবে কোন সময় লেনদেন হবে। সে হিসেবে ব্যাংক বন্ধের ঘোষণায় এ দুটি সিস্টেম বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখন দ্রæতগতিতে যাতে কাজ শুরু হয়, এ জন্য ডেটা আপলোডের কাজ চলে।

জানতে চাইলে এক্সিম ব্যাংকের মতিঝিল শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন বলেন, গত ১৩ এপ্রিল থেকেই চেক ক্লিয়ারিংয়ে সমস্যা হচ্ছে। কোনো চেক ক্লিয়ারিং করতে পারিনি। শুনেছি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটির কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে জানিয়েছে আজকেই (মঙ্গলবার) এ সমস্যার সমাধান হবে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জরুরি আন্তঃব্যাংক লেনদেন সম্পন্নের সুবিধার্থে সরকার ঘোষিত সার্বিক কার্যাবলী/চলাচলে নিষেধাজ্ঞার সময় বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস (বিএসিএইচ) বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘরের কার্যক্রমও সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, লকডাউন পাঁচ লাখ টাকার বেশি অংকের চেক ক্লিয়ারিংয়ের জন্য বেলা ১১টার মধ্যে পাঠাতে হবে। এসব চেক দুপুর ১২টার মধ্যে নিষ্পত্তি হবে। আর যেকোনো রেগুলার চেক বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে ক্লিয়ারিংয়ের জন্য পাঠাতে হবে। এসব চেক নিষ্পত্তি হবে দুপুর ১টার মধ্যে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এই সময়ে চেক ক্লিয়ারিং করবে বিএসিএইচ। কিন্তু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে গত ১৩ এপ্রিল থেকে এ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এদিকে কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন এবং সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলছে ঢিলেঢালাভাবে। গতকাল রাজধানীর ব্যাংক পাড়া মতিঝিল, দিলকুশা, দৈনিক বাংলা, পল্টনসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকের উপস্থিতি কম। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ব্যাংকে আসছেন না। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংক বন্ধ থাকার খবরে গত তিনদিন গ্রাহক বেশি বেশি করে টাকা উত্তোলন করেছেন। এছাড়া বিধিনিষেধের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনেকে বের হতে পারছেন না। এসব কারণে গ্রাহকের চাপ কম। মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাশ কাউন্টারে প্রতিদিনের সেই চিরচেনা রূপ নেই। অনেক কাউন্টার গ্রাহকশূন্য। কর্মকর্তারা বসে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন।

জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, ‘লকডাউনও ব্যাংক বন্ধ হওয়ার খবরে গত তিন কার্যদিবসে গ্রাহকের অনেক ভিড় ছিল, লেনদেনও বেশি হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকরা ওই সময় প্রয়োজনীয় লেনদেন সেরে ফেলেছেন। এ কারণে আজ ব্যাংক খোলা থাকলেও গ্রাহকের ভিড় কম। এছাড়া বিধিনিষেধের কারণে যানবাহন কম, তাই অনেকে ঘর থেকে বের হতে পারেননি।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হবে। লেনদেন-পরবর্তী আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে শাখায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি। এদিকে ব্যাংকে আসা কর্মীরা জানান, আসার সময় কয়েকটি পুলিশ চেক পোস্টে তাদের থামানো হয়েছে। ব্যাংকের পরিচয় দেওয়ার পর ছেড়ে দিয়েছে। স্টাফ বাসে যারা এসেছেন তাদের সমস্যা না হলেও ব্যক্তিগত গাড়িতে আসার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা করতে হয়েছে বেশি।

বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংকের মতিঝিল শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন বলেন, লেনদেন হচ্ছে, তবে খুব সামান্য। কারণ অনেকে আগেই প্রয়োজনীয় লেনদেন সেরে ফেলেছেন। আসার পথে পুলিশ চেক পোস্টে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে ব্যাংকের কার্ড দেখানোর পরে তারা আর কোনো ঝামেলা করেনি, ছেড়ে দিয়েছে। আসার জন্য মুভমেন্ট পাসের প্রয়োজন হয়নি বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com