1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৩৪ অপরাহ্ন

“আহিয়ানকে” নিয়ে আসিস একটু আদর করবো -রহমত উল্ল‌্যাহ রতন

নাগ‌রিক খবর ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১
  • ৪০৫ বার পঠিত

“আহিয়ানকে নিয়ে আসিস-একটু আদর করবো : আর বল‌া হ‌বে না তন্নীর”  

সো‌হেলীয়া তন্নী আমাকে ফোন দিয়েছিল, আমার আহিয়ানের মা মারা যাবার কয়েকমাস পর। আমার কানে এখনো বাজে, তন্নী বলা কথাটা। আহিয়ান কে একদিন নিয়ে আসিস বাসায়। ওরে একটু আদর করবো। মায়ের আদর পাচ্ছেনা ছেলেটা। কেমো দিয়ে আসছে বলে তার শরীর খুব দুর্বল ছিল। তাই আমার বাসায় আসতে পারছেনা এটাও জানিয়েছিল। আমি তালপুকুর পাড় থাকি আর সে পুলিশ লাইনে। খুব কাছাকাছি, কিন্তু একে করোনাকাল, আবার সে কেমো থেরাপি দিয়ে আসছে, আমি আর সাহস পাইনি আহিয়ান কে নিয়ে তন্নীর বাসায় যেতে।

তন্নীর দুইটা ছেলে। বড়টা আহয়ানের ৫/৬ মাসের বড় আর ছোটটা ত ছোটই। বউ মারা যাবার পর থেকেই আমি একটু বেসামাল আছি, জীবনের হিসেব নিকেস পালটে গেছে। তন্নী ফোন করতো তখন মাঝে মাঝে। বলতো, অসুস্থ থাকলেও ওর ছেলেরা ওকে দেখেই শান্তিতে থাকে। বাবা যতই করোক, সন্তানের শান্তির আশ্রয় হলো মা, মায়ের আচল। তন্নী ফিল করতো, মা ছাড়া আহিয়ান কেমন থাকবে, মায়ের আদর কোথায় পাবে? আমাদের আরেক বান্ধবী ফারহানা ইহসান ঊর্মী থেকেও নাকি প্রায় সময় আহিয়ানের খবর নিত, কেমন আছে আহিয়ান?

তন্নীর বাসায় ২০১৯ এর শুরুতে যেদিন আমরা গিয়েছিলাম, আমি বারবার শুধু তার দুইটা ছেলেকে দেখছিলাম। এত মায়াবি আর গলুমল্লু দুইটা ছেলে!!! বাসায় ফিরে বউকে বলেছিলাম,কিভাবে তন্নির স্বামী এই দুই মাসুম বাচ্চাকে সামলাবে? একটা অমঙ্গলের অশনী সংকেত ত ছিলই, কখন কি হয়? সেই সময়ে একবারেও ভাবিনি তন্নীর ছেলেদের আগেই আহিয়ান তার মা’কে হারাবে!

যদিও ভিক্টোরিয়া কলেজে আমরা একসাথে পড়েছি কিন্তু সেইসব দিনে আমাদের মাঝে খুব একটা সখ্যতা ছিলনা। তন্নী খুব গম্ভীর টাইপের ছিল। আমরা একটু বেপরোয়া চলতাম। এককথায় আমরা ছিলাম ব্যাড বয়। আমি আর মোহাম্মদ হাক্কানী যেমন কে কি ভাবলো তা নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। তবে দুইজনে খুজে খুজে পরিচিত রোগি খুজে রক্ত দিতাম। আমাদের ৩ বন্ধুর বাকি দুইজন সোহাগ  আর মিশন আমরা তিনজনও আবার রক্ত দিয়ে আসার সময়ে রোগীর আত্মীয় স্বজনদের দেয়া কোক আর ফলমুল হাতে নিয়ে আসার সময়ে বলতাম, নে রক্ত বেচা কামাই, খেয়ে নে!! আবার সহজ সরল জিয়াউর রহমান ও তন্নীর সাথে ইংরেজি বিভাগে পড়ত, জিয়াকে নিয়েও আমরা আড্ডাবাজি করতাম। জিয়াও তখন বাধন নামের রক্তদান সংগঠন করতো। তন্নী অসুস্থ হবার পর হাক্কানী আর জিয়া দুইজনেই নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে করেছে তন্নীর জন্য। আমাদের লিজেন্ড গ্রুপ থেকেও আমরা তন্নীর পাশে দাড়িয়েছিলাম। কিন্তু সব প্রচেস্টা, সব আশা ধুলায় মিলিয়ে গত শুক্রবারে তন্নী আমাদের ছেড়ে চলে যায় পরপারে।

আহিয়ানের যেমন আর আদর পাওয়া হলোনা তেমনি তন্নীর ছেলেরাও মায়ের আদর হারালো,মায়ের আচল হারালো চীরদিনের জন্য। ভাগ্যের হাতে আমরা সবাই বন্দী। আমাদের সকল প্রচেস্টা ই নি:শেষ হয়ে যায় তাকদীরের লেখনীর কাছে।

এই পৃথিবী তার নিয়মেই চলবে, ৭০০ কোটি লোকও গুনে গুনে তার দিন কাটাবে, হাসি কান্না নিয়েই জীবন সংসার চালাবে। শুধু আহিয়ান আর তন্নীর দুই ছেলের মতো যারা ছোট্ট বয়সেই মায়ের আচল হারিয়েছে, তারা হয়তো লড়াই করেই বেচে থাকবে দুনিয়াতে, কেউ মানুষের মতো মানূষ হবে, কেউ অমানুষ ও হবে কিন্তু মানুষ অমানুষ যে যাই হউক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একটা আক্ষেপ নিয়েই তারা বাচবে,

মায়ের আদর, মায়ের আচল সবার কপালে থাকেনা। মনে পড়ে বউ প্রায় সময়ে আমাকে বলতো, আহিয়ানের অতিমাত্রায় বাবা প্রীতি নিয়ে আপনি যত ভাল বাবা হউন না কেন, কোনদিন মায়ের বিকল্প হতে পারবেন না!

বউ বলতো, আপনি আহিয়ানের ভাল বাবা হতে পারবেন কিন্তু আহিয়ানের মা কখনোই না!

 

লেখক: রহমত উল্ল‌্যাহ রতন

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com