1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার পথ চলার ইতিহাস

দে‌লোয়ার হো‌সেন জা‌কির :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ৮৯৭ বার পঠিত

কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থা মানেই কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গন। অত:পর সব কথা কুমিল্লা নামেই উল্লেখ করা হবে। ত্রিশের দশকের গোড়ায় কুমিল্লার কিছু সমাজবান্ধব মানুষ একত্রিত হয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থা গঠন করেছিলেন। তারা রাজনৈতিক – সামাজিক সব কাজই করতেন। ক্রীড়া ছিল তাদের আনন্দের বিষয়। তারা তৎকালীন ডি এম অর্থাৎ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থা গঠনে নিজেদের প্রস্তাব পেশ করেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট যা বর্তমানে ডেপুটি কমিশনার, তিনি পদাধিকার বলে বহু প্রতিষ্ঠানের সভাপতি থাকেন, সেই হিসেবে ধরে নিতে পারি ত্রিপুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ত্রিশের দশকের গোড়ায় সূচনা।

১৯৬০ সালে শহর কুমিল্লার নাম অনুযায়ী জেলার নাম হয় কুমিল্লা জেলা। তখনই কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নামকরণ করা হয়। সেজন্য সাপ্তাহিক আমোদ এর ক্রীড়া তথ্যকে নির্ভরশীল মনে করা যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব তথ্য আছে। এমন কি জাতীয় পর্যায়ে বহু তথ্য পাওয়া যায়, যা নির্ভরযোগ্য। কিন্তু আঞ্চলিক পর্যায়ে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। কেননা এসব বিষয়ে তথ্যগ্রন্থ খুব বেশি রচিত হয়নি, ক্রীড়াক্ষেত্রে নেই বললেই চলে। সেই হিসেবে ‘আমোদ’ ও মো: ফজলে রাব্বীর তথ্য আমাদের বিশেষ সহায়ক। কাজী শামসুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার ইতিহাস গ্রন্থে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে লিখেছেন। সে লেখায় খুব বেশি তথ্য নেই। সব লেখায় সমসাময়িক বিষয় বেশি ছিল। কুমিল্লার ইতিহাসবিদ মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুসের স্মরণীয় বরণীয় গ্রন্থে সামান্য কয়েকজন ক্রীড়াবিদের নাম রয়েছে। এ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয় না।
অতএব কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে যা কিছু, তার সবই আমাদের দেখা। যেহেতু জেলা শহরের সব কিছুর উদ্যোক্তা সমাজবান্ধব ব্যক্তিবর্গ। আর তাতে জড়িয়ে থাকেন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, সেজন্য সব সময়ই এই পদের অধিকারী যারা, তারা সব সময়ই সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন।
১৯৩৩ সালের সময়টা নিয়ে সংশয়, এজন্য যে ১৯৩২ সালে ডি এম স্টিফেনসনকে বৃটিশবিরোধী বিদ্রোহী নারী শান্তি ও সুনীতি গুলি করে হত্যা করেছিলেন। এর ফলে ৩২ ও ৩৩ সালে জেলা শহর আতঙ্কের মাঝে ছিল বলে ধরে নেয়া যায়। এছাড়া মোহাম্মদ ফজলে রাব্বীর তথ্য ছিল ত্রিপুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা ত্রিশের গোড়ায় সূচনা। ত্রিপুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা গড়ে তোলবার জন্য যারা কাজ করেছিলেন, তারা ১৯৩৩ সালকে প্রতিষ্ঠার বছর ধরে ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে কী ক্রীড়া তৎপরতা ছিল, সেটাই হচ্ছে বড় বিষয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থা গড়ে তোলার পেছনে যারা কাজ করেছিলেন তাদের কারো নামই সুনিদিষ্টভাবে পাওয়া যায় না। চাঁদপুর, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কুমিল্লা সদর উত্তর ও দক্ষিণ মহকুমা নিয়ে কুমিল্লা জেলা। যা ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত একত্রে ছিল। ফলে কুমিল্লা জেলার ইতিহাস মানেই কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাক্ষণবাড়িয়া নিয়ে জেলার ইতিহাস।
এই ইতিহাসের আলোকেই শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নামের সম্মানেই কুমিল্লা স্টেডিয়ামের নামকরণ করেন কুমিল্লা -৬ থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। ১৯৮৪ সালে তিনি যখন কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, তখন তিনি ঘোষনা দিয়েছিলেন কুমিল্লার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর কুমিল্লা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ সালেই জাতীয় সংসদে প্রস্তাব করেন কুমিল্লা স্টেডিয়ামের নামকরণ হবে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম। বর্তমান সময়ের এটাই বিরাট ইতিহাস।
২০১৬ সালে কুমিল্লা স্টেডিয়ামকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে পরিণত করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা দেশরতœ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে কাজে লাগান জেলা ক্রীড়া সংস্থার পৃষ্ঠপোষক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তিন বছরের মধ্যে স্টেডিয়ামটিকে দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামে পরিণত করা হয়। বর্তমানে স্টেডিয়ামটি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে।
স্টেডিয়ামের পূর্ব-উত্তর কোনে নির্মাণ করা হয়েছে সুইমিং পুল। কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব সুইমিং পুল ছিল না। ২০১৮ সালে সুইমিং পুল নির্মাণ ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের অভাব পূরণ। সুইমিংপুলের নামকরণের উদ্যোক্তা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন। তিনি কুমিল্লার সন্তান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রূপকার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের নাম প্রস্তাব করলে মাননীয় সংসদ সদস্য তা সমর্থন করেন।
কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার জন্য অবদান রেখেছেন এমন ১৭ জন প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠককে ২০১৭ সালে এবং খেলোয়াড়-সংগঠক, এমন ১৬ জনকে ২০১৯ সালে সম্মাননা প্রদান করেন। ব্যক্তিগতভাবে পরপর দুই বছর এ ধরনের সম্মাননা জেলা ক্রীড়া সংস্থা প্রথম করলো। এই সম্মাননার বৈশিষ্ট্য হলো অন্তত পাঁচ দশক সরাসরি কুমিল্লায় থেকে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে যারা তৎপর ছিলেন, দায়িত্ব পালন করেছেন, এমন ৩২ জনকে বাছাই করা হয়। পূর্বে যারা কেবল জাতীয়ভাবে সুনাম কুড়াতেন, তাদের ডেকে এনে সম্মান দেয়া হতো। যারা কুমিল্লা জেলাভিত্তিক কাজ করতেন, তারা অন্তরালে থাকতো। অন্তরালের মানুষগুলোকে পর্যায়ক্রমে স্বীকৃতি দিত ক্রীড়া লেখক সমিতি। সবাই যে ঢাকায় গিয়ে সব সময় কাজ করতে পারবে এমন নয়। অথচ এমন বহুজন আছেন, যারা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন। সারা জীবন মাঠে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এই বিষয়টা মনে রেখেছেন এবং সেজন্য তার নিজস্ব পর্যবেক্ষণে ৩৩ জনকে বাছাই করেন। তাদের মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের জেলা প্রশাসক শহীদ এ কে এম শামসুল হক খান, পুলিশ সুপার শহীদ মুন্সি কবীর উদ্দীন আহমেদ জেলা প্রশাসক, সভাপতি ও পুলিশ সুপার সহ-সভাপতি ছিলেন। এ আই চৌধুরী মন্তু মিয়া, রশিদুল হাসান খান কালু মিয়া, ইউসুফ জামিল বাবু, তারা তিনজনই ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আবদুল আউয়াল, এডভোকেট আবদুল আজিজ খান, শিবলী নোমানী তারা ছিলেন সহ-সভাপতি। ডি কে গুহ, ইসমাইল খান, বাদল কুমার হাজরা তারা ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক। ডা: সৈয়দ আহমেদ, এ এফ এম শাহাব উদ্দিন আহমেদ মানিক, শেখ গিয়াসউদ্দিন বাবুল, ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান তারা ছিলেন নির্বাহী সদস্য। তাদের সকলকে মরণোত্তর সম্মাননা দেয়া হয়। তাদের পরিবারের সদস্যগণ উপহার গ্রহণ করেন।
২০১৯ সালে ইউসুফ জামিল বাবু, মো: ইলিয়াস মিয়া, নাজিম উদ্দিন আহমেদ খসরু, এহছানুর রহমানকে দেয়া হয় মরণোত্তর সম্মাননা। সংগঠক হিসেবে সম্মাননা পান এডভোকেট দিলীপ কুমার পাল, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাশেদা রহমান, বিজন রায়, ক্রীড়া লেখক আবুল হাসানাত বাবুল, জাতীয় দলের ফুটবলার বাদল রায়, ভলিবলে মো: আবদুল কুদ্দুস, জাতীয় দলের কাবাডি খেলোয়াড় মো: জহিরুল হক, নাজির আহমেদ, হকিতে মো: নাসিম আহমেদ, মো: তফাজ্জল হোসেন, এ্যাথলেটিক্সে মো: আবদুল মতিন, তাদের সবার জন্য করা হয়েছে স্মৃতিফলক। এই স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। দুইটি অনুষ্ঠানই হয়েছিল অত্যন্ত আন্তরিক। এই সবকিছুই ইতিহাসের উপাদান।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার ৮৭ বছরের কথা ফুল মালায় গাঁথা সহজ কাজ নয়। তবুও কম কথায় মালা গেঁথে নিতে চেষ্টা করা হলো। একথা সত্য ১৯৩৩ – ১৯৪৭ সময়কালের কোন তথ্য রেকর্ড কারো কাছে নেই। কোথাও এ বিষয়ে লেখা নেই। তাই জনশ্রুতিনির্ভর যেসব তথ্য জানা যায় তাই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। একটা বিষয় পরিষ্কার জেলা ক্রীড়া সংস্থা গঠনের পূর্বে ইউনিয়ন ক্লাব, ইয়ংম্যানস্ ক্লাব গঠিত হয়। ইউনিয়ন ক্লাব গঠনে নওয়াব হোচ্ছাম হায়দার, কামিনী কুমার দত্ত, উপেন্দ্র মোহন মিত্র, নরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত, ইব্রাহিম খানসহ আরো অনেকে জড়িত ছিলেন। এক সময়ের ফিফা রেফারী ডি কে গুহ জুয়েল থেকে জানা যায় ইউনিয়ন ক্লাব গঠিত হবার পরপরই ইয়ংম্যানস্ ক্লাব গঠিত হয়। সন্তোষ ভট্টাচার্য, সুরোধ মিত্র, বিনোদ দাস গুপ্ত প্রমুখ ইয়ংম্যানস ক্লাব গঠনের পেছনে ভূমিকা রাখেন। ধরে নেয়া যায় ইউনিয়ন ক্লাব ও ইয়ংম্যানস্ ক্লাব যারা সংগঠিত করেছিল তারাই তৎকালীন ডি এম এর সঙ্গে যোগাযোগ করে জেলা ক্রীড়া সংস্থা গঠন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে। সে সময়কালে বিসিক এলাকার মাঠে মূল খেলাধুলার আয়োজন হতো। তখন বিসিক এলাকা ছিল বিশাল মাঠ। তৎকালীন প্রশাসন খেলাধুলার জন্য বিসিক মাঠেই কাজ করার জন্য একটি কমিটি করে দেয়। ধরে নেয়া যায় এই কমিটিই তখন জেলা ক্রীড়া সংস্থা কর্তৃপক্ষ ছিল।
বর্তমানে যেখানে স্টেডিয়াম তা খোলামাঠ ছিল এবং সেখানে বৃটিশরা ফুটবল, হকি খেলতো। এখান থেকে রেইসকোর্স হয়ে ময়নামতি পর্যন্ত ছিল ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা। ঘোড়দৌড়ের মূল স্থানটি ছিল পুলিশ লাইন থেকে শাসন গাছা পর্যন্ত। পরবর্তীকালে এই স্থানটি রেইসকোর্স নামে পরিচিত হয়। ঘোড়াগুলো বৃটিশ সাহেবরা বর্তমান স্টেডিয়ামের খোলা মাঠে রাখতো। বিসিক মাঠের পাশাপাশি বর্তমান ই পি জেড যেখানে, সেখানেও খেলার মাঠ ছিল। সেখানেও খেলাধুলা হতো। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালীন সময়ে কুমিল্লা বিমান বন্দর গড়ে ওঠে। সম্ভবত ১৯৪২ সালে বিমান বন্দর হয়। পরিপূর্ণ হয় ১৯৪৬ সালে। সেই সময়ে বৃটিশ যুদ্ধ বিমান এখানে ওঠানামা করে। এ বিষয়ে প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায় বলে আমাদের সেই হিসেবে তথ্য ধরে নেয়া যায়। বিমানবন্দরের পাশে বিশাল ফসলের মাঠে খেলাধুলা হতো। এটা সবাই স্বীকার করেন। সেকালে বারোমাস খেলাধুলা হতো না। বছরের বিশেষ বিশেষ সময় বাছাই করে কর্তৃপক্ষ খেলাধুলার আয়োজন করতো। ইউনিয়ন ক্লাব ও ইয়ংম্যানস ক্লাবের পরপরই গড়ে ওঠে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব। ইউনিয়ন ক্লাব, ইয়ংম্যানস ক্লাব উনিশ শতকের গোড়ায়, আর মোহামেডান স্পোটিং ত্রিশের দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোহামেডান গড়ে ওঠে কলকাতা মোহামেডানের উৎসাহে। কলকাতা মোহামেডানের ইতিহাস ১২৯ বছরের।
কুমিল্লা মোহামেডান ক্লাব গড়ার পেছনে মুরাদনগরের বাবুটিপাড়ার রমিজউদ্দিনের ভাইদের অনেক অবদান ছিল। তাদের মধ্যে মনির আহমেদ, মমতাজ আহমেদ অন্যতম। তবে মোহামেডানের প্রথম সভাপতি ছিলেন পিল ডেলোনি। পিল ডেলোনি ছিলেন ফ্রেন্স, ধর্মে খ্রিষ্টান। তারা বৃটিশদের থেকে জমিদারী পেয়ে কুমিল্লা শহরে স্থায়ী হয়েছিলেন। উদ্যোক্তারা পিল ডেলোনিকে সভাপতি করে মোহামেডানের কার্যক্রম শুরু করে। ধারণা করা যায়, এই তিন ক্লাবের কর্মকর্তারা মিলেই জেলা ক্রীড়া সংস্থা গঠন করেছিলেন বলে জানা যায়, তখনকার অভিজাত পরিবারের সমাজবান্ধব ব্যক্তিবর্গই জেলা ক্রীড়া সংস্থা গঠন করেছিল। সেই হিসেবে উপেন্দ্রমোহন মিত্র, কামিনী কুমার দত্ত, নরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত, ভূষন রায় বাহাদুর, স্বর্ণ কমল রায়, শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী, এ এম নাসিম উদ্দিন হয় উদ্যোক্তা ছিলেন নতুবা উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করেছিলেন। তারা ছিলেন ১৯১৮ থেকে ১৯৪১ সাল সময়কালীন কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তা।
তবে এটা নিশ্চিত ত্রিশের দশকে স্টেডিয়াম স্থানান্তরের কাজটা হয়ে গিয়েছিল। তখন প্রস্তাবনা ছিল অশোকতলায় না করে বিমানবন্দর এলাকায় স্টেডিয়াম করা হোক। ত্রিশ-চল্লিশের দশকে টমসমব্রীজ এলাকা ছিল একেবারে নির্জন। অপেক্ষাকৃত শহরের এক পাশে। ফলে উদ্যোক্তারা শহরের মাঝামাঝি স্থানে স্টেডিয়াম করার জন্য যে প্রস্তাবনা করেছিলেন, তা সহজেই অনুমান করা যায়। সেই সময়কালে বৃটিশ সৈনিকরা বুট পায়েই ফুটবল খেলতেন। তাদের সঙ্গে খালি পায়ে ফুটবল, হকি খেলতেন দেশী খেলোয়াড়রা। তাদের মধ্যে ছিলেন ছোট রশিদ, ইব্রাহিম খান, সিরাজ উদ্দিন, নাসিম উদ্দিন, রমিজ উদ্দিন, মনিরুল হক, মমতাজ আহমেদ, পি কে দাস, সূর্য চক্রবর্তী, সন্তোষ ভট্টাচার্য, মহিউদ্দিন, সাদেক খান প্রমুখ। সেই সময় আমাদের দেশী খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৃটিশরা পারতো না। বৃটিশদের বুটের কারণে দেশী খেলোয়াড়রা সুবিধা করতে পারতো না। তারপরেও দেশী খেলোয়াড়রা এক, দুই গোলে বিজয়ী হতেন। তখনো লীগ চালু হয়নি। মাঝে মাঝে টূর্ণামেন্ট হতো। ফুটবলই বেশী হতো, হকি হতো, ক্রিকেট হতো খুব কম। সাঁতার, এ্যাথলেট, সাইকেল প্রতিযোগিতা হতো। ঘোড়দৌড় হতো নিয়মিত। তারপরেও যে তথ্য সঠিক, তা হচ্ছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শুরুর আগে কুমিল্লা জিলা স্কুল মাঠ, স্টেডিয়াম, ঈদগাহ ময়দান বৃটিশরা সৈনিকদের শিবির বানিয়ে ফেলে। টিন দিয়ে সৈনিকদের আবাস বানিয়ে ফেলে। জিলা স্কুল, ইউসুফ স্কুল, খাদ্য গুদামে পরিণত হয়। জিলা স্কুল, ইউসুফ স্কুলের ছাত্ররা শৈলরানী স্কুলে ক্লাস করতো। কুমিল্লা ক্লাব চলে যায় ফয়জুন্নেছা স্কুলে। কুমিল্লা ক্লাব দখল করে বৃটিশ অফিসাররা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মহকুমা অফিস চলে যায় লাকসামে। কেবল উত্তর মহকুমা অফিস আসে রানীরদিঘীর পাড়ে। ইউরোপীয় ও আফ্রিকান সৈনিকরা থাকতো স্টেডিয়াম সেনা শিবিরে। ময়নামতি তখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। তারপরেও অফিসারদের মেস ছিল সেখানে। প্রায় অর্ধযুগে লেখাপড়ার বালাই ছিল না। ভিক্টোরিয়া কলেজও বৃটিশদের নিয়ন্ত্রনে। এইসঙ্গে খেলাধুলাও নির্বাসনে চলে যায়। ১৯৪৬ সালে স্টেডিয়াম এলাকা পর্যায়ক্রমে খালি হতে থাকে। মাঠে তখন বৃটিশরাই ফুটবল খেলতো। তখন ছিল বৃটিশ খেদাও আন্দোলন। ভারত উপমহাদেশ তখন স্বাধীনতা আন্দোলনে দুর্বার। এরই মধ্যে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট হয় পাকিস্তান। ১৫ আগষ্ট হয় ভারত। ১৯৪৭ সালে কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন অতীন্দ্র মোহন রায়। ধারণা করা যায় ঐ সময় থেকে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ঘুুরে দাঁড়ায় কুমিল্লার মাঠের ছোট রশিদ, নাসিম উদ্দিন, রমিজ উদ্দিন, সন্তোষ ভট্টাচার্য, পি কে দাস, মহিউদ্দিন কলকাতার লীগে খেলতেন। তারা ইষ্ট বেঙ্গল ও মোহামেডানে খেলতেন।
১৯৪৭ – ১৯৭১ ঃ এই সময়কালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্বে স্টেডিয়াম নিয়ন্ত্রণে আসে। যদি মনোনীত প্রতিনিধি না থাকতো ডি এম কমিটি করে দিত। সেই কমিটি খেলাধুলা পরিচালনা করতো। কমিটিতে ক্লাব প্রতিনিধিরা থাকতেন। যতদূর জানা যায়, প্রথম দিকে আন্ত: মহকুমা টূর্ণামেন্ট হতো। চাঁদপুর, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, উত্তর মহকুমা মিলে আন্ত: মহকুমা টূর্ণামেন্ট পর্যায়ক্রমে চাঁদপুর, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কুমিল্লায় হতো। তারপরে হতো আন্ত:জেলা ফুটবল। সেই সময় তিনটি বিভাগ ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বিভাগের আন্ত:জেলা ফুটবল হতো চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, সিলেট ও কুমিল্লায়। কুমিল্লা এ বিভাগের মাঝামাঝিতে থাকায় বেশীর ভাগ আন্ত:জেলা ফুটবল কুমিল্লাতেই হতো। ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট, হকি, এ্যাথলেট, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, ভলিবলও আন্ত:জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হতো। পঞ্চাশের দশকেই ফুটবল লীগের সূচনা হয়। লীগের আকর্ষণে খুব দ্রুত বহু ক্লাব সৃষ্টি হতে থাকে। ইউনিয়ন ক্লাব, ইয়ংম্যানস ক্লাব, মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব, পাশাপাশি গড়ে ওঠে ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, পাক ইউনাইটেড, পুলিশ এসি, ইয়ং সোসাইটি, কালেক্টরেট এসি, টাউন ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, প্রতিভা ক্লাব, ইগলেটস ক্লাব, মুসলিম এসি, পাক কমার্স, স্পোটিং ইউনিয়ন, ইস্ট বেঙ্গল, সেন্ট্রাল জেল, পি এন্ড টি, এসও ইঞ্জিনিয়ারিং, কমার্শিয়াল ইন্সটিটিউট, মনিপুরি এসে মার্চেন্ট ক্লাব। জেলা ক্রীড়া সংস্থা সেই সময়কালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করে তাদের প্রতিনিধি সংস্থায় নিয়ে আসতো। সেই হিসেবে ভিক্টোরিয়া কলেজ, জিলা স্কুল, কুমিল্লা হাই স্কুল, ইউসুফ স্কুল, ঈশ্বর পাঠশালা, ভিক্টোরিয়া কলেজেই স্কুল লীগ খেলতো। পঞ্চাশ দশকের সূচনাতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে পঞ্চাশ দশকের গোড়া থেকে অথার্ৎ ১৯৫৯ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের তালিকায় রয়েছেন এস এম ফারাহ, এডভোকেট আহমেদ আলী, বিনোদ গুপ্ত দাস, শফিকুল ইসলাম হারুন মিয়া, এ আই চৌধুরী মন্তু মিয়া, রশিদুল হাসান খান কালু মিয়া, কালু মিয়া ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক কিন্তু ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
মদন ক্ষেত্রী নামে একজন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে নাম পাওয়া যায়। তার সময়কালটা নিশ্চিত নয়। স্টেডিয়ামের কাঠামো ছিল স্টেডিয়ামের পশ্চিমে একচালা বিশাল গ্যালারী। তার পাশেই ছিল সীমানা ওয়াল। দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় ছিল কাঠের প্যাভিলিয়ন। তা ছিল দোতলা। যাদের যেদিন খেলা থাকতো, সেদিন তারা দোতলা ব্যবহার করতেন। নীচের তলায় ছিল জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস। মাঠের সীমানার পশ্চিমে শিশুস্বাস্থ্য ক্লিনিক, যক্ষা রোগের ক্লিনিক, উত্তর-পশ্চিমে ছিল পরিত্যক্ত একটি একতলা দালান। এই দালানটি চাকলা-রৌশনাবাদ খাজনা আদায়ের অফিস ছিল। স্টেডিয়ামের উত্তরের সীমানা দেয়ালের পাশেই ছিল স্কুল মাঠ, যা ইন্টারস্কুল মাঠ নামে পরিচিত ছিল। স্কুল পর্যায়ে সব খেলা এই মাঠে অনুষ্ঠিত হতো। ইন্টারস্কুল মাঠের উত্তরে ছিল পুলিশ অফিসারদের মেস। এই মেসটি ছিল এল প্যাটার্নের এক তলা। সামনে দোতলা টিনের ঘর। মাঠের পূর্বপাড় তখনো উন্মুক্ত। পাশে বিশাল ড্রেন। মাঠের চারদিকে অসংখ্য বটবৃক্ষ, কৃষ্ণচূড়া, আম গাছ, মাঠের ভিতরেও বৃক্ষ ছিল। সেই দুই দশকের ফুটবলের ছিল বিরাট আকর্ষণ। কেবল টিকেট কেটেই দর্শকরা ফুটবল উপভোগ করতেন। জেলা ক্রীড়া সংস্থা এক মৌসুমের ফুটবলের আয় দিয়ে সারা বছর চলতো। সে জন্য প্রতি মৌসুমে ফুটবল লীগ ডাকে কিনে নিতেন। দুআনা দামের টিকেট কেটে দর্শক লীগ উপভোগ করতো। ক্রিকেট, হকি, এ্যাথলেট ছিল উন্মুক্ত। ১৯৬৩ সালে শীতকালে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বে স্টেডিয়ামের তিন দিকে সীমানা দেয়াল নির্মিত হয়। সেই দুই দশকে বিশেষ করে ষাট দশকে শীতকালে প্রদর্শনী লেগেই থাকতো। প্রদর্শনী চলাকালীন ক্রিকেট লীগ হতো পুলিশ লাইন ময়দানে। প্রদর্শনী চলাকালীন মাঠে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত আয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা পেতো। তখন প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ দুটি ফুটবল লীগ হতো। সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী দল চ্যাম্পিয়ান হতো। ইয়ংম্যানস ক্লাব, মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব, পি এন্ড টি, পাক ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়ন টিম। ফুটবলের প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ লীগ হতো। ক্রিকেট লীগ খেলতো ইউনিয়ন ক্লাব, ইয়ংম্যানস ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ইগলেটস ক্লাব, ওয়াপদা এসি, ওয়াপদা ডিভিশন, মোহামেডান স্পোটিং, ইউসুফ স্কুল, জিলা স্কুল, ঈশ্বর পাঠশালা তখন হকি লীগও হতো। ফুটবল টূর্ণামেন্টে ছিল কে এল রায় কাপ, আর এম সাহা শিল্ড, হেমন্ত মেমোরিয়াল কাপ, ফুটবল লীগের ট্রফির নাম ছিল এন সি কাপ অথার্ৎ নরেন্দ্র চন্দ্র কাপ। ফুটবল টুর্ণামেন্টের আকর্ষণীয় কাপ রকিব উদ্দিন গোল্ডকাপ। এই কাপটি প্রদান করেন ঢাকা মোহামেডানের সভাপতি মাইনুল ইসলাম। তা ছিল ৫৫ ভরি ওজনের। ঢাকায় হতো আগা খান গোল্ডকাপ। তা ছিল আন্তর্জাতিক টুর্ণামেন্ট, রকিব উদ্দিন গোল্ডকাপ ছিল জাতীয় পর্যায়ে। এই টুর্ণামেন্টে ঢাকা মোহামেডান, ঢাকা ফায়ার সার্ভিস, ঢাকা পুলিশ দল, চাঁদপুর, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম ও স্থানীয় বহুদল অংশগ্রহণ করতো। ১৯৬৩ সালে স্টেডিয়ামের পূর্বপ্রান্তে গ্যালারী নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এই কাজ ছিল জেলা পরিষদের দায়িত্বে। জেলা পরিষদের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন আবদুর রশিদ ইঞ্জিনিয়ার। জেলা প্রশাসক ছিলেন কাজী মোশারফ হোসেন। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এডভোকেট আহমেদ আলী, ঠিকাদার ছিলেন সুলতান আলম চৌধুরী। ১৯৬৫ সালে পূর্বপ্রান্তের গ্যালারী নির্মিত হয়। গ্যালারীর নীচে স্টেডিয়াম মার্কেট নির্মিত হয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়ের পথ প্রশন্ত হয়। সেই দুই দশক ছিল ফুটবলের স্বর্ণকাল। মোহামেডানে খেলতেন আশরাফ চৌধুরী, শাহ আলম, মিলন, শরু, নজরুল, কবীর, মোতাহের, নুরুল ইসলাম, লক্ষন দাস, মন্টু দাস, নিহার, বলু, কাশেম, মোরশেদ, লিয়াকত আলী, সলিমুল্লা, জগলুল হক, ওয়াসি, মাহবুবুল হক। পাক ইউনাইটেড খেলতেন গাজীউল হক, নাসির চৌধুরী, আমান চৌধুরী, মহিউদ্দিন, আবদুল কুদ্দুস, নওশের, রুহুল আমিন টুনুু, আবুল খায়ের, নিশিথ, এস নন্দি নিলু, হুমাযুন কবির, কায়কোবাদ, শিবলী নোমানী, পুলিশে খেলতেন বলাই দাস। ইষ্টবেঙ্গলে খেলতেন মদন দাস, ফজিলত খান,সামাদ, সার্জেন্ট লিলু। ওয়ার্ন্ডাসে খেলতেন এরশাদ, গোলরক্ষক তপন। এর মধ্যে আশরাফ চৌধুরী, হুমায়ুন কবীর, শাহ আলম, আমান চৌধুরী পাকিস্তান জাতীয় দলে খেলতেন। পূর্ব পাকিস্তান দলে খেলেছেন মদন দাস, আবদুল কুদ্দুস, নিশিথ নিহার দাস। পাকিস্তান আর্মি দলের বাঙ্গালী ফুটবলার ছিলেন ক্যাপ্টেন নজরুল, ক্যাপ্টেন আবুল খায়ের। এছাড়া তারা সবাই কুমিল্লা জেলা দলে খেলেছেন। ফুটবল লীগে জগলু, ওয়াসি, মন্টু দাস জনপ্রিয় নাম ছিল। ক্রিকেটে ইউনিয়ন ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ইগলেটস, ওয়াপদা, ভিক্টোরিয়া কলেজ বেশী জনপ্রিয় ছিল। ইগলেটসের কাজী সালাহ উদ্দিন মুকুল, আকুল ইসমত খান, মহিউদ্দিন খান, মন্টু, সবুজ, ব্রাদার্সের মো: সেলিম, বৌদ্ধ সিংহ জনপ্রিয় ছিলেন। হকিতে জনপ্রিয় ছিলেন ওয়াহেদ আলী খান, আবদুস সাদেক, শিবলী নোমানী, আবদুল মমিন পুলিশ। লক্ষন দাস ছিলেন সেরা এ্যাথলেট। ইগলেটস ক্লাব সংগঠিত করতেন ইসমাইল খান। সঙ্গে ছিলেন শেখ গিয়াস উদ্দিন বাবুল, বিজন রায়। পৃষ্ঠপোষক ছিলেন কাজী জহিরুল কাইয়ুম বাচ্চু মিয়া, পাক ইউনাইটেড সংগঠিত করতেন শিবলী নোমানীর পিতা সুলতান আহমেদ, সৈয়দ ইসমাইল, নাসির চৌধুরী, মো: ফজলে রাব্বী, এম সাদেক, এস,এ রৌফ। মোহামেডান অনেকেই সংগঠিত করতেন। সভাপতি ছিলেন এম এ সামাদ। তার পাশাপাশি আবদুল আওয়াল, ডা: আজগর, কালা মিয়া, ইলিয়াস মিয়া, আবুল কাশেমসহ আরো অনেকে সাংগঠনিক কাজ করতেন। আহমেদুল হক, লিডু মিয়া ওয়ান্ডার্স সংগঠিত করতেন। তার পাশাপাশি ডি কে গুহ জুয়েল। শফিকুর রহমান ওয়াপদা সংগঠিত করতেন। কর্মাশিয়াল ইন্সটিটিউট সংগঠিত করতেন ডি কে পাল ভুতু, ইয়াং সোসাইটি সংগঠিত করতেন রশিদুল হাসান খান কালু মিয়া, সেকালে প্রতিটি ক্লাবের পেছনে বহুজনের বহু রকমের সহযোগিতা ছিল। ফুটবলে কুমিল্লা প্রাদেশিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কতবার এবং কোন সালে তা উদ্ধার করা যায়নি। ক্রিকেট-হকি-এ্যাথলেট-সাঁতার-ব্যাডমিন্টনে কুমিল্লা জেলা দলের ভাল ফল রয়েছে। কুমিল্লা জেলা দলের আশরাফ চৌধুরী, আমান চৌধুরী, জহিরুল হক, বলাই দাস, মদন দাস, শাহ আলম, হুমায়ুন কবীর, গোলাম সারোয়ার টিপু, গাজীউল হক, নিশিথ, সামাদ, রাসুু, গোল্ডকিপার কবির, ক্যাপ্টেন নজরুল ক্যাপ্টেন আবুল খায়ের অসাধারণ ফুটবলার ছিলেন। এই দলের মুখোমুখি হতে পূর্ব পাকিস্তানের বহু জেলা দল হিমশিম খেয়েছে। ১৯৬৬ সালে আর এম সাহা শীল্ডের ফাইনাল খেলেছিল ন্যাশনাল ব্যাংক বনাম ব্রাক্ষণবাড়ীয়া মহকুমা ক্রীড়া সংস্থা। এই খেলাটি চারদিন ড্র থাকার পর পঞ্চম দিনে ব্রাক্ষণবাড়ীয়া বিজয়ী হয়। ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার পক্ষে খেলেছিল জহিরুল হক, আবিদ হোসেন এবং মুসা। ন্যাশনাল ব্যাংকের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ছিলেন সিলেটের রণজিৎ দাস। এই রণজিৎ দাস পাকিস্তান জাতীয় দলের গোলরক্ষক ছিলেন। যতদূর জানা যায় ১৯৫৫ সালে কলকাতা মোহামেডান ১৯৫৬ সালে কলকাতার ইষ্টবেঙ্গল কুমিল্লায় আসেন। মোহামেডান ৪-১ গোলে বিজয়ী হয়েছিল। কুমিল্লার পক্ষে গোলটি করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। কলকাতার ইষ্টবেঙ্গল ৫-২ গোলে পরাজিত হয়। কুমিল্লার বলাই দাস হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ১৯৬৯ সালে কুমিল্লায় হয়েছিল পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা। পেশোয়ার বিভাগকে পরাজিত করে চট্টগ্রাম বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দলের অধিনায়ক জহিরুল হকসহ ছয়জন ছিলেন কুমিল্লার খেলোয়াড়। কুমিল্লা জেলা দলের খেলোয়াড় মন্টু দাস জয়সূচক গোলটি করেছিলেন। ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফুটবলে কুমিল্লা জেলা দলে খেলেছিলেন জহিরুল হক, সলিমুল্লাহ, নওশের, গোলাম সারোয়ার টিপু, কায়কোবাদ, মন্টু দাস। ১৯৭০ সালে ইন্দোনেশিয়া ও সিংহল বর্তমানে শ্রীলঙ্কা কুমিল্লায় প্রদশনী ফুটবল খেলেছিল। দুটি দল কুমিল্লা মোহামেডানের সঙ্গে বিজয়ী হয়েছিল। ১৯৭১ সাল ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের বছর রশিদুল হাসান খান (কালু মিয়া) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাঠ পাহারা দিয়েছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী মাঠ ব্যবহার করতে চেয়েছিল। তিনি বলেছেন তাদের দায়িত্বে মাঠ ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু তিনি কোন দায়িত্ব নিতে পারবেন না। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বছর বাংলা দেশের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সব অঙ্গনে তৎপর ছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল। কুমিল্লার নিহার, গোলাম সারোয়ার টিপু, কায়কোবাদ অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। সাঁতারু অরুন নন্দী, কলকাতার সল্ট লেকে ৯০ঘন্টা সাঁতার কেটেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থা ১৯৭২ সালে শহীদ শামসুল হক খান, কবির উদ্দিন শীল্ড প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ সার্কিট হাউজ থেকে জেলা প্রশাসক শামসুল হক খান ও মুন্সী কবীর উদ্দিনকে পুলিশ সুপারের বাসভবন থেকে পাকিস্তান আর্মি ময়নামতি সেনানিবাসে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের হত্যা করে। আর শামসুল হক কবির উদ্দিন শীল্ড, যা ১৯৭২ সালের প্রথম ফুটবল টুর্ণামেন্ট জেলা ক্রীড়া সংস্থা তা বাস্তবায়ন করে। আশির দশকে হয় তারু মিয়া শীল্ড। নতুন শতাব্দীতে সূচনা হয় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল। আন্ত:উপজেলা এই ফুটবল একটি সৃজনশীল টুর্ণামেন্ট। ১৯৭৩ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে রাশিয়ার মিনস্ক ডায়নামো ক্লাব জাতীয় দলের সঙ্গে প্রদর্শনী ফুটবল খেলে। কুমিল্লা স্টেডিয়ামে ছিল উপচেপড়া দর্শক। কুমিল্লার জহিরুল হক, গোলাম সারোয়ার টিপু, কায়কোবাদ, নওশের জাতীয় দলে ছিলেন। স্টেডিয়ামের পশ্চিম-উত্তর কোনায় একতলা ছাদ থেকে বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে ধারা বিবরণীর ব্যবস্থা করে। আবদুল হামিদ, মঞ্জুর হাসান মিন্টুর সঙ্গে কুমিল্লার পক্ষে আশরাফ চৌধুরী ধারা বিবরণী দিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে কিছু সময় আবুল হাসানাত বাবুলও বেতারে ধারা বিবরণী দিয়েছিলেন। সেই খেলায় রাশিয়ার দলটি ৩-০ গোলে বিজয়ী হয়েছিল। ইয়ং সোসাইটিতে আবদুল হক এবং বাদল রায় নিজেদের মেলে ধরেন। জাতীয় ফুটবলার বাদল রায়কে আবদুল হকই ইয়ং সোসাইটিতে নিয়ে আসেন। বাদল রায় পরে আঞ্চলিক সুতাকল ও মোহামেডানে খেলেন। ইয়ংম্যানসে সিরাজ, রেয়াজ ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার তামান্না দুর্দান্ত খেলেন। পাক ইউনাইটেড হয় বাংলাদেশ ইউনাইটেড। এই দলে শেষবারের মত খেলেন শিবলী নোমানী ও তার অনুজ সুলতান শাহরিয়ার, হাফিজ উদ্দিন খোকন, আমান চৌধুরী ফজিলত খানের কাছে বাংলাদেশ ইউনাইটেড হস্তান্তর করেন। পরে এ দায়িত্ব নেন আবদুল মতিন খান, এস এ রৌফ নবাগতদের নিয়ে মোগলটুলি কর্মাস গড়ে তুলেন। স্পোটিং ইউনিয়নকে শক্তিশালী দলে পরিণত করেন ইলিয়াস মিয়ার সন্তান মাহবুবুল আলম চপল। ইষ্টবেঙ্গলকে আরো শক্তিশালী করেন রফিকুল ইসলাম, এডভোকেট আবদুল আজিজ খান। মোগলটুলি কর্মাস পরে আনোয়ারুল কাদের বাকি ও তার অনুজ বজলুল কাদের কাফি ও মনঞ্জুর কাদের মনির হাতে যায়। তারা দলের নামকরন করেন ইউনাইটেড কর্মাস। কাউন্সিলর মনঞ্জুর কাদের মনি এই দলকে শক্তিশালী দলে পরিণত করেন। বজলুল কাদের কাফি, ডি কে গুহ জুয়েল এক মেয়াদে জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। দেশ স্বাধীন হবার পর সন্তোষ ভট্টাচার্য ইয়ংম্যানস ক্লাবকে বাদল হাজরার কাছে হস্তাস্তর করেন। বাদল হাজরা ফুটবল-ক্রিকেটে ইয়ংম্যানসকে শক্তিশালী দলে পরিণত করেন। মোহামেডান ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন টিম হলেও ক্রিকেটে ভাল ছিল না। ক্রিকেটে বারমাসই শক্তিশালী দল ছিল ইউনিয়ন ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ইগলেটস ক্লাব, ওয়াপদা কর্মাশিয়াল ইন্সটিটিউট। বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান বুলবুল ও ইউসুফ জামিল বাবু মিলে মোহামেডানকে শক্তিশালী ক্রিকেট দলে পরিণত করেন। ইউসুফ জামিল বাবু হিডেন হিরোজকে শক্তিশালী দলে পরিণত করেন।
কুমিল্লা আবাহনী ক্লাব গঠন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বর্তমান মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের গঠন করা আবাহনী ক্লাবটির কুমিল্লার দায়িত্ব নেন তিনি। কুমিল্লায় আবাহনী ক্লাব গঠন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ক্রীড়া সংগঠক বাদল হাজরাকে ক্লাবটি পরিচালনা দায়িত্ব দেন এবং সদস্য হিসেবে পেছন থেকে পৃষ্ঠপোষকতার মূল দায়িত্বটি পালন করেন। এ সময়ে আবাহনীর সভাপতি ছিলেন রোটারিয়ান আনোয়ার হোসেন। সাধারণ সম্পাদক বাদল হাজরা।
এরপর কুমিল্লা লীগে আবাহনী ক্রীড়া চক্র একটি আলোচিত দল। মোহামেডানের ২৮ বছর সভাপতি ছিলেন এম এ সামাদ। তার মৃত্যুর পর তার সহধর্মিনী বেগম সুফিয়া সামাদ মোহামেডানের সভাপতি হন। তারপরে মোহামেডানের সভাপতি হন হাসান জামিল সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক হন ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান।
এরপর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আনোয়ারুল হক মিলন। সর্বশেষ সাধারণ সম্পাদক এয়ার আহমেদ সেলিম। আবুল কাশেম নামে একজন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের মোহামেডান এবং কুমিল্লা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অবদান রয়েছে। ক্লাবগুলো হচ্ছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রাণ। ক্লাবগুলো বাদ দিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ইতিহাস হতে পারে না। এক সময় ইগলেটস ক্লাব ছিল ভাইদের ক্লাব। প্রথমে ছিলেন ইসমাইল খান, ইসমত খান, মহিউদ্দিন খান, পরে সাইফুল ইসলাম মন্টু, সবুজ একই সময়ে কাজী কামাল, কাজী আনোয়ার, কাজী সিরাজ, কাজী রফিক কাইয়ুম চার ভাই ইগলেটস ক্লাবে খেলেন। একই সময়ে আক্তার, আশরাফ, রুমি তিন ভাই একই ক্লাবে খেলেন। কোহিনুর, শাহিনুর, রোমেন, মাহমুদ চার ভাই ইগলেটসে খেলেন। মোজাম্মেল, শহীদ, এমদু, এনামুল হক মনি চার ভাই ইগলেটসে খেলেন, রতনও একই ক্লাবে খেলতেন। এখান থেকেই মনি বিকশিত হন। পরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অবধারিত ক্রিকেটারে পরিণত হন। তখন ক্রিকেটে জনপ্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন ত্রিদীব সাহা ঝিন্টু, নাজমুল হাসান পাখি, বিষ্ণুপদ সিনহা, সৈয়দ আহামেদ বাকের, রফিকুল ইসলাম, ইয়াজদানী তাহা, মেসবাউর রহমান টিপু, নাজমুল হক ছুট্টু, মোজাম্মেল হোসেন (উইকেট কিপার) এহসানুর রহমান এস.এম ফারুক। ব্যাডমিন্টনে আলো ছড়িয়েছেন তপন দত্ত। ১৯৭৪ সালেই কুমিল্লা জেলা ফুটবল, হকি, কাবাডিতে প্রথম জাতীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়। এই সময়ের সেরা এ্যাথলেট রোকেয়া বেগম খুকি। হার্ডলসে সম্ভবত সাতবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়। তারপরে রোকেয়া বেগম বেবি কিশোরী এ্যাথলেটে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হন। এ্যাথলেটে জাতীয়ভাবে ভাল করতেন আবদুল মতিন। সুলতান শাহরিয়ারও ভাল এ্যাথলেট ছিলেন। দৌড়ে ভাল ছিলেন রণজিৎ দাস, মিজানুর রহমান এ্যাথলেটে সফল ছিলেন। ষাট দশকের শেষের দিকে সত্তর দশকের প্রথমদিকে একজন সেরা এ্যাথলেট ছিলেন রাশেদা রহমান রাশু। যিনি বর্তমানে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। ১৯৮১ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রীড়া পরিষদ থেকে একটি চিঠি আসে কুমিল্লা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা গঠন করবার জন্য। আবুল হাসানাত বাবুল, রশিদুল হাসান খান কালু, ডি কে গুহ জুয়েল, বদরুল হুদা জেনুরা মিলে যান জেলা প্রশাসক এস এ বারীর কাছে। জেলা প্রশাসকের বাসভবনে কমিটি করে দেয়া হলো। সভাপতি জেলা প্রশাসক পতœী আর সাধারণ সম্পাদক হলেন বন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদের সহধর্মিনী সানোয়ারা বেগম। ১৯৮৩ সালে বন কর্মকর্তা বদলী হয়ে গেলে নতুন বন কর্মকর্তা সহধর্মিনী সাধারণ সম্পাদক হলেন। তখনই পূর্বের ব্যক্তিবর্গ কুমিল্লার সন্তান রাশেদা রহমানকে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন দেবার প্রস্তাব করলে জেলা প্রশাসক আমিনুর রহমান মনোনয়ন দেন। ১৯৭৫ সালের প্রথম দিকে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ হারুন পাশার সঙ্গে কয়েকজন যোগযোগ করেন। সদর দক্ষিণ মহকুমা প্রশাসক জালালউদ্দিন, কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল, ডি কে গুহ জুয়েল, শিবলী নোমানীর প্রস্তাবনায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন বিবি রহমান। ১৯৭৬ সালে একটি ক্রীড়া সপ্তাহ সফল করেছিলেন বিবি রহমান। ১৯৭৮ সালে রশিদুল হাসান খান কালু মিয়া, ফজিলত খান, বাদল হাজরা, ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান, শাহাবউদ্দিন মানিক, শফিকুর রহমান যোগাযোগ করেন জেলা প্রশাসক হাবিবুন নবী আশিকুর রহমানের সঙ্গে। তাদের প্রস্তাবে জেলা প্রশাসক নতুন কমিটি অনুমোদন দেন। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ক্রীড়া সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক, ফজিলত খান, বাদল হাজরা যুগ্ম সম্পাদক, শফিকুর রহমান কোষাধ্যক্ষ হন। ১৯৮৫ সালের প্রথম দিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি নতুন করা হয়। ইউসুফ জামিল বাবু, সাধারণ সম্পাদক হন। প্রথম বছরেই তিনি চমক দেন। সে বছর কুমিল্লা জেলা শেরে বাংলা কাপে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়। বাদল হাজরা ছিলেন ম্যানেজার।
ফুটবল সমিতির সভাপতি ছিলেন পুলিশ সুপার মোদাব্বের হোসেন চৌধুরী, পরের বারে সভাপতি ছিলেন পুলিশ সুপার মালিক খসরু, বাদল রায় ছিলেন অধিনায়ক, প্রণব কুমার দে ভানু, রণজিৎ সাহা, হরে কৃষ্ণ, গোলরক্ষক আমানসহ আরো অনেকে ছিলেন সে বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা দলকে দাউদকান্দিতে বরণ করে কুমিল্লা সারা শহরে বণার্ঢ্য শোভাযাত্রায় তাদের সংবর্ধিত করা হয়। টাউন হলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তিন দশক ধরে ইউসুফ জামিল বাবু স্টেডিয়াম এবং কুমিল্লা জেলা ক্রীড়াঙ্গনকে সরব রেখেছিলেন। কুমিল্লা ক্রীড়াঙ্গনে তিনি নিবেদিত ছিলেন বলে বাংলাদেশ ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারই যোগ্য উত্তরসূরী নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন, যার সময়ে কুমিল্লা স্টেডিয়াম পরিপূর্ণতা লাভ করে। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, দাবা, টেবিল টেনিস, কারাতে এ্যাথলেটিক্স একটি নিয়মিত বর্ষ পরিক্রমায় পরিণত হয়। জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল গেল এক দশকে অনেক জনপ্রিয় হয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে সহযোগিতায় লাকসাম, চান্দিনা, দাউদকান্দি নতুন ভেন্যু হয়েছে। চূড়ান্ত খেলা হয় কুমিল্লা স্টেডিয়ামে। স্কুল-মাদ্রাসার খেলাতেও রয়েছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতা। মাহবুব আলী জাকি, ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স জাতীয় অনুর্ধ-১৯ দলের বোলিং ও ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পালন করে জাতীয় দলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করা মানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্মান। কেননা দুজনই জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য। স্মৃতি থেকে স্মরণ করছি ১৯৫৯ সালে কুমিল্লার হোচ্ছামিয়া স্কুল প্রাদেশিক ফুটবলে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়। লক্ষণ দাস, মন্টু দাস, মাহবুবুল হক এই স্কুল দলের খেলোয়াড় ছিলেন। অবহেলিত একটি স্কুলের সেদিনের অর্জনটা ছিল স্মরণীয় বিষয়। ১৯৮৬ সালে এরশাদ কিশোর ফুটবল টুর্ণামেন্টে কুমিল্লা চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০০৩ সালে যুব ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ান হয় কুমিল্লা জেলা দল। এ দুইটি প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলা দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন মো: মজিবুর রহমান।
২০২০ সালের উল্লেখযোগ্য টুর্ণামেন্ট মুজিব শতবর্ষ কাউন্সিলর কাপ টি-২০। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়াডকে সম্পৃক্ত করে ১৩টি দল গঠন করা হয়েছিল। প্রতিটি দলে জাতীয় দলের এবং জাতীয় অনুর্ধ-১৯ দলের খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ ছিল। এই টুর্ণামেন্টের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট উপ পরিষদের সভাপতি সাইফুল আলম রনি। জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট উপ-পরিষদ এ টুর্ণামেন্ট বাস্তবায়ন করেন। এই টুর্ণামেন্ট উপভোগ করেছে হাজার হাজার দর্শক। স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে স্থান না পেয়ে মাঠে এবং মাঠের বাইরে আরো কয়েক হাজার দর্শক ক্রিকেট উপভোগ করে। চূড়ান্ত খেলার দিনে ২৫ হাজার দর্শক সমবেত হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো থেকে জানা যায়। এই টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান এবং চূড়ান্ত খেলা শেষে পুরষ্কার বিতরন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো: আবুল ফজল মীর।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লীগের ঢাকা মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব হোম ভেন্যু করেছিল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামকে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ঢাকা মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব ও বসুন্ধরা কিংসের মধ্যে অনুষ্ঠিত খেলায় বিপুল দর্শক উপস্থিত ছিল। মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব বিজয়ী হয়েছিল। কুমিল্লা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আরফানুল হক রিফাতের অনুরোধে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামকে হোম ভেন্যু করার পরিকল্পনা করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এক সময়ের জাতীয় ফুটবলার কুমিল্লা কৃতি সন্তান বাদল রায়। বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা করে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, মো: আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি, আরফানুল হক রিফাত, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন।
জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে হয়েছিল বাংলাদেশ স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরী সমিতির ৪৯তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের আয়োজনে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা: দিপু মনি এমপি। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি ও বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন। দুইটি অনুষ্ঠানেই সভাপতিত্ব করেছিলেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুস সালাম। স্কুল, মাদ্রাসা জাতীয় অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার সকল সদস্যদের সাংগঠনিক সহযোগিতাছিল।
কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রীড়া ক্ষেত্রে স্থানীয়, বিভাগীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফলতা সুদূরপ্রসারী। উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে প্রথম বাংলাদেশ যুব গেমস্ (অনুর্ধ-১৭) বিভাগীয় পর্যায়ে কুমিল্লা জেলা দল সাঁতার, কাবাডি, ফুটবল, কারাতে, তায়কোয়ানডোতে চ্যাম্পিয়ন এবং ভলিবল ও এ্যাথলেটিক্সে রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
বর্তমানে কারাতে বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় খেলা। কুমিল্লা জেলা কারাতে দল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করে। কুমিল্লা কারাতে প্রধান উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম জানু, সভাপতি কুমিল্লা ড্রাগন কারাতে এসোসিয়েশন।
২০১৯ সালে বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল (অনুর্ধ-১৭ বালক) প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলা দল বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা কর্তৃক ফেনী জেলায় আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলা রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কর্তৃক আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলা দল পদ্ম অঞ্চলের আঞ্চলিক পর্বের খেলায়, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ গ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করে।
বাংলাদেশ ভলিবল ও কাবাডি ফেডারেশন কর্তৃক আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ে ভলিবল ও কাবাডি প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলা দল ২০১৬ ও ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রথম বাংলাদেশ যুব গেমস্ (অনুর্ধ-১৭) কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার হাসান মিয়া বাংলাদেশ দ্রুততম মানব হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
বাংলাদেশ জাতীয় যুব এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় কুমিল্লার কৃতি সন্তান সোহাগ মিয়া ২০০৮ সালে, ২০০৯ সালে মো: ফারুক ও ২০১২ সালে মো: হাবিব দ্রুততম মানব হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
জাতীয় যুব ভলিবল প্রতিযোগিতায় ২০০০ – ২০০১ সালে কুমিল্লা জেলা যুব ভলিবলে দল চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০০৩ ও ২০০৫ সালে রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
জাতীয় পর্যায়ে ১৯৮৯ইং সালে নির্মাণ স্কুল ক্রিকেটে কুমিল্লা জিলা স্কুল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত ২০০০ – ২০০১ইং সালে জাতীয় যুব ক্রিকেট (অনুর্ধ-১৯) রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
২০১৮ সালে আয়োজিত জাতীয় স্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলার কুমিল্লা হাই স্কুল দল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা, ক্রীড়া সমিতি কর্তৃক আয়োজিত ৪৯তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা হাই স্কুল দল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
১৯৯৭ সালে জাতীয় যুব ক্রিকেটে রানার আপ হয় কুমিল্লা জেলা দল। ২০১২ সালে স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতির প্রতিযোগিতায় ফুটবলে বিবিরবাজার হাই স্কুল জাতীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৮৬ ও ১৯৮৭ সালে ব্যাডমিন্টনে ম্যানস সিঙ্গেল ও ডাবলসে চ্যাম্পিয়ন হয় মাহমুদুর রহমান মাহি।
১৯৯৭ সালে জাতীয় যুব ক্রিকেটে রানার্স আপ এবং ২০০০ ও ২০০১ সালে রানার্স আপ ও ২০০২ ও ২০০৩ সালে জাতীয় যুব ক্রিকেট লীগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে কুমিল্লা জেলা দল। ২০০৪ সালে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন শীপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলা দল রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০০০ সালে বগুড়াতে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে কুমিল্লা হাই স্কুল রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন কর্তৃক আয়োজিত আই.জি.পি কাপ (অনুর্ধ-২১) যুব কাবাডি প্রতিযোগিতায় ২০১৬ – ২০১৭ সালে কুমিল্লা জেলা দল জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
নেপালে অনুষ্ঠিতব্য সাব গেমস্ ২০১৮ উশুতে কুমিল্লার কৃতি সন্তান ওমর ফারুক রৌপ্য পদক পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার মোসাম্মদ আখি আক্তার সাউথ এশিয়ান গেমস্ ২০১৯ এ কারাতে অংশগ্রহণ করে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মাহমুদুল হাসান জয় কুমিল্লার কৃতি সন্তান। ২০১০ সালে চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপ ক্রিকেটে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ স্বর্ণপদক জয় করে। ফয়সল হোসেন ডিকেন্স স্বর্ণপদক জয়ী দলের খেলোয়াড়।
১৯৯৭ সালে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিতব্য আই.সি.সি কাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এনামুল হক মনি চ্যাম্পিয়ন দলের একজন খেলোয়াড়। তিনি পরবর্তীতে আই.সি.সি প্যানেল আম্পায়ার নিযুক্ত হন। কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থা জেলার ক্রীড়াক্ষেত্রে এক বিশাল ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৩ – ১৯৭৪ইং সালে প্রথম জাতীয় ক্রিকেট লীগে কুমিল্লা জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে এবং একই সালে জাতীয় হকি লীগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন রয়েছে। ১৯৭৩ইং সালে বাংলাদেশ যুব ফুটবলে জাতীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। যুব ভলিবলে কুমিল্লা জেলা দুইবার জাতীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৮৫ইং সালে অনুষ্ঠিত শের ই বাংলা কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলা ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ঢাকা কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় সাঁতারে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাঁতারু আবু ইউসুফ প্রেসিডেন্ট পদক লাভ করেন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন ও বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত “সেরা সাঁতারুর খোজে বাংলাদেশ” প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাঁতারু নাজমুল হাসান প্রধানমন্ত্রী পদক লাভ করেন। এছাড়াও আমাদের রয়েছে জাতীয়ভাবে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ঃ- বাদল রায় (ফুটবল), প্রণব কুমার দে ভানু (ফুটবল), ফজলে রাব্বি (ফুটবল), রণজিত দাস (ফুটবল), শরিফুল ইসলাম (ফুটবল), নিজাম (ফুটবল) আরিফ (ফুটবল), বিপ্লব ভট্টাচার্য (ফুটবল গোলকিপার), মাসুদ আলম জাহাঙ্গীর (অনুর্ধ-১৯ – ফুটবল), অনুর্ধ-২৩ – ফুটবল), গোলম মোস্তফা খান ফরহাদ (প্রেসিডেন্স গোল্ডকাপ ফুটবল- লাল দল), জাহাঙ্গীর আলম (ভলিবল), জাহাঙ্গীর আলম-২ (ভলিবল), মো: মোমিনুল ইসলাম খান (ভলিবল), গোলাম রসুল মেহেদী (ভলিবল), মো: শাহআলম (ভলিবল), বেগম রওশন আরা (ভলিবল), জাহাঙ্গীর (কাবাডি), জহিরুল হক (কাবাডি), নাজির আহমেদ (কাবাডি)। এনামুল হক মনি (ক্রিকেট), ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স (ক্রিকেট), ওয়াসেল উদ্দিন (অনুর্ধ-১৯), হাসান (ক্রিকেট অনুর্ধ-১৯ জাতীয় দল), সাইদ সরকার (ক্রিকেট অনুর্ধ-১৯ জাতীয় দল), আশিকুর রহমান (ক্রিকেট অনুর্ধ-১৯ জাতীয় দল), আলী আরমান রাজন (ক্রিকেট অনুর্ধ-১৯ জাতীয় দল)। আতিকুর রহমান (কারাত), ইকবাল হোসেন (কারাত), দ্বীন ইসলাম মৈশান (কারাত), জান্নাতুল নূর মিতু (কারাত), আলবিনা রহমান বৃষ্টি (কারাত), নওশিন তাবাস্সুম (কারাত), মোসা: ইসরাত জাহান রিয়া (তায়কোয়ানডো জাতীয় জুনিয়র), আবু জায়েদ খান (তায়কোয়ানডো), মো: মেহেদী হাসান (তায়কোয়ানডো), মোসা: সাবরুন জাবিন ইরা (তায়কোয়ানডো), মোসা: ফাতেমা ইসলাম (তায়কোয়ানডো), শেখা ইসলাম (তায়কোয়ানডো)। ইমু চৌধুরী, ইকবাল ইসলাম (শুটিং) ত্রিদিব সাহা ঝিন্টু, তপন দত্ত, আবদুস সাদেক (হকি)। ক্রীড়াঙ্গনে কুমিল্লার আট দশকে বহুকিছু আছে। যা লেখায় তুলে ধরা হলো তা ইতিহাস নয়। ইতিহাসের অংশ। আগামীতে আরো বহুজনের বহু তথ্যের আলোকে লেখা পরিপূর্ণতা পাবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা এক সময় এই দিকটাও পরিপূর্ণ করবে বলে আশা করি।
(কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার পথ চলার ইতিহাস, প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুল। তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন, কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বদরুল হুদা জেনু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন জাকির।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com