1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
H H H H H H H H H H

‌ ইং‌রেজী নববর্ষ – বিদায় ২০২২,স্বাগতম ২০২৩

নাগরিক খবর অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১১১ বার পঠিত

মহাকালে বিলীন হয়ে গেল আরও একটি বছর ২০২২। ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টার ঘর স্পর্শ করতেই সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও আতশবাজি আর নীল আলোয় বরণ করেছে নতুন বছরকে। স্বাগতম ২০২৩।

বিদায় বছরে পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব চুকিয়ে নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে ২০২৩। নতুন বছর মানেই নতুন উদ্দীপনা, নতুন প্রেরণা নিয়ে এগিয়ে চলা। পেছনে ফেলে আসা বছরের ভুল, হতাশা, দুঃখ, গ্লানিকে দূরে ঠেলে নতুন উদ্যমে সাহস নিয়ে পথচলা। দেশজুড়ে শীতের মাঝে উত্তাপ নিয়ে এসেছে ইংরেজি নতুন বছর।

সভ্যতার ইতিহাস বলে, অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার এই স্পৃহা মানুষকে নিয়ে এসেছে এতদূর। তাই নতুন বছরে নতুন স্বপ্ন বুকে নিয়ে এগিয়ে যাবে বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো বাঙালিরাও।

শিক্ষাঙ্গন, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক নানা ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে যাবে- এমন প্রত্যাশা দেশের সব মানুষের। গত বছর যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল তার অনেকখানি হয়তো পূরণ হয়নি। কিন্তু তাতে কি? নতুন উদ্যম নিয়ে এগিয়ে গেলে সাফল্য ধরা দেবেই।

বিদায় বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন, মুজিব শতবর্ষ উদযাপন, করোনা মহামারিসহ নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত ছিল। পাশাপাশি পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের মতো প্রকল্প চালু হওয়াসহ নানা কারণে ২০২২ সাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল বছর‌টি। নতুন বছরে অগ্রগতির পথে সব জটিলতা দূর হবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।

মহামারির ধাক্কা সামলে নিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাক। রাজনৈতিক যোগ-বিয়োগ, ধর্মীয় সম্প্রীতি-সহিংসতা, আন্তর্জাতিক শুভ-মন্দ দৃষ্টি বারবার হোঁচট খেলেও আবারও উঠে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

বিদায় নিলো ২০২২, সম্ভাবনার আশায় বিশ্ব পা রাখলো ২০২৩-এ। বিগত বছরগুলোতে মহামারি পরিস্থিতির কারণে ঝিমিয়ে পড়া বিশ্ব স্বাভাবিক হতে শুরু করে ২০২২ সালে। করোনা পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের একটি প্রয়াস দেখা যায় গোটা বিশ্বে। সেই ধারা অব্যাহত রাখতেই ২০২৩-কে বলা হচ্ছে আরও সম্ভাবনাময়।

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট, উন্নয়ন এবং নানা অস্থিরতায় পার হয়েছে ২০২২ সাল। দেশের অর্জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল স্বপ্নের পদ্মা সেতু এবং মেট্রোরেলের শুভ সূচনা। মহামারির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে এই বছরেই। করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও মাইলফলক অর্জন হয় বাংলাদেশের। দেশের জনসংখ্যার অধিকাংশ গোষ্ঠীকেই নিয়ে আসা হয়েছে টিকার আওতায়, যা বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম টানেলের একটি টিউবের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রে নারী দলের সাফ ফুটবল হয় অনেক হতাশার মধ্যেও হাসি ফুটিয়েছে। তাছাড়া রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব কিছুটা শঙ্কাও তৈরি করেছিল। মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভে চাপ, ডলার সংকট, অর্থপাচারের মতো ঘটনাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা করা হলেও তেমন কিছুই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দেখেনি। তাছাড়া রাজনৈতিক নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে গেছে এই বছর। ২০২৪ সালে দেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা আছে। তাই ২০২৩ সাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেব মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কাও আশা করা হচ্ছে।

এই বছর আরেক আলোচিত ঘটনার জন্ম দেয় প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে আয়োজিত কাতার বিশ্বকাপ। ৩৬ বছরের হতাশা যেন এক নিমিষেই কেটে গেছে ল্যাটিন দল আর্জেন্টিনার কাপ জয়ের মধ্যে দিয়ে। তাছাড়া এবারের কাতার বিশ্বকাপকে বলা হচ্ছে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সেরা একটি আয়োজন।

সমাজ গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, সামনের দিকে আমাদের এখানে আন্তর্জাতিক যে মূল্যস্ফীতি দেখছে বিশ্ব সেটি আমাদের এখানেও আসবে। তবে আমরা মাইক্রো ইকোনমির সূচকে ভালো করছি। ম্যাক্রো ইকোনমির ক্ষেত্রে আমাদের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা লাগবে। বিশেষ করে আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন আছে, নতুবা আমরা সাফার করবো। দ্বিতীয়ত , ভারতের সঙ্গে আমাদের যে সাতটি নিত্যপণ নেওয়ার কোটা আছে এরকম আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করার প্রয়োজন আছে। ভারত সাড়া বিশ্বে সেসব পণ্য রফতানি বন্ধ করলেও আমরা পাবো। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যদি আমরা আরও দুই তিনটা দেশের সঙ্গে কোটা নিশ্চিত করতে পারি তাহলে খাদ্য সংকট আসবে না।

তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে রাজনৈতিক কিছু অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে। এটি স্থিতিশীল করার জন্য আমাদের একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। সমঝোতার মাধ্যমে আমরা যদি একটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে পারি তাহলে সেটি আমাদের একটা অর্জন হবে। তাছাড়া রাজনৈতিক নেতারা একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কথা বলেছে। এই সরকার যদি সেই বিপ্লবের শুরুটি করতে পারে তাহলে আমাদের ডিভিডেন্ডটা ভালো আসবে।

সর্বশেষেও বলতে হয়, ‘মুকুলিত সব আশা,/ স্নেহ, প্রেম, ভালবাসা,/ জীবনে চির স্মৃতি হয়ে রয়।… পুরাতন বর্ষ বিদায় লয়।/নববর্ষের আগমন হয়।’ সব আশা-স্নেহ-ভালোবাসা স্মৃতি হয়ে থাকুক। আগামী আসুক পুষ্পশোভিত হয়ে। প্রজ্বলিত সূর্যের আলোকচ্ছটায় আলোকিত হোক বিশ্ব। বিশ্বের যাবতীয় মানুষের কল্যাণ হোক। বাংলাদেশ উত্তরোত্তর সফলতার দিকে এগিয়ে যাক। বিদায় ২০২২; স্বাগত ২০২৩।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com