1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

এ দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ বাহিনী যথাযথ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে”- প্রধানমন্ত্রী

নাগরিক খবর অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১০৭ বার পঠিত

এ দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ বাহিনী যথাযথ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার (২৩ জানুয়ারি ২০২২) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত পুলিশ সপ্তাহ ২০২২ শুভ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

করোনা সংক্রমণের কারণে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের দৃষ্টিনন্দন সৃশৃঙ্খল প্যারেড দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। প্যারেডে অংশগ্রহণকারী সকলকেই আমি অভিবাদন জানাচ্ছি”। এ সময় তিনি স্বশরীরে উপস্থিত হতে না পারার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।


বক্তব্যের শুরতে তিনি মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শুভলগ্নে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। শ্রদ্ধা জানান জাতীয় চার নেতার প্রতি ও ৩০ লক্ষ নিহত মুক্তিযোদ্ধা ও দু লক্ষ নির্যাতিত মা-বোনদের প্রতি। তিনি স্মরণ করেন ১৯৭১ সালে রাজারবাগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক আক্রমণে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধে শহিদ হওয়া পুলিশ সদস্যদের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা যখন দায়িত্ব নিলেন তিনি চেয়েছিলেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান উন্নত হোক, সমৃদ্ধশালী হোক। এটা বাস্তবতা যে একটা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ, রিজার্ভ নেই, কারেন্সি নোট নেই, যুদ্ধকালীন সময় কোন ফসল হয়নি। বিধ্বস্ত একটি বাংলাদেশ, একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে উন্নতি করা, বাঙালি জাতিকে স্বাধীন জাতিসত্তার পরিচয় দেওয়া এবং এক বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা, এই অসাধ্য সাধন জাতির পিতা করেছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে। বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলে তিনি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে মর্যাদা অর্জন করেছিলেন”।

তিনি বলেন, “পুলিশের জন্য তাদের বেতন বৃদ্ধি করা, তাদের রেশন বৃদ্ধি করা এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে গণহত্যা চালিয়েছিল সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী তার ফলে পুলিশের বিভিন্ন থানাগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। সেগুলোও তিনি মেরামত করেন এবং পুনঃস্থাপন করেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে সর্বপ্রথম নারীদের সুযোগ প্রদান করেন। আমাদের দুর্ভাগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে গতি সূচিত হয়েছিল তা তিনি সফল করে যেতে পারেননি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমাদের জন্য একটি কালো দিবস। সেদিন ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আমার পিতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়, হত্যা করা হয় আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এবং আমার তিন ভাইকে”।

তিনি বলেন, “যখন এই খুনিরা আক্রমণ করে চলে যায় তখন রমনা থানা থেকে পুলিশ বাহিনী গিয়ে এই আহত নিহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। যার ফলে আমার ফুফু গুলি খেয়ে পঙ্গু অবস্থায়ও বেঁচে থাকে। আমার ফুফাতো দুই বোন এবং ভাই তারা গুলি খেয়েও বেঁচে থাকে শুধু পুলিশের এই সাহসী ভূমিকার জন্য। তাই আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি”।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাসায় যখন আক্রমণ চালায় তখন এসবি’র এএসপি ছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। খুনিরা যখন দোতলায় যেতে চায় তখন সাহসীকতার সাথে তিনি বাধা দিয়েছিলেন। তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয় এবং আরো যারা ছিল তারাও গুলিতে আহত হয়। আমি তাদেরকেও স্মরণ করি।
“তিনি বলেন, “আমরা দুই বোন আমার ছোট বোন রেহেনা ও আমি বিদেশে ছিলাম। তাই বেঁচে গিয়েছিলাম। রিফিউজি হয়ে থাকতে হয়েছিল। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে আমি তখন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও দেশে ফিরে আসি। একদিকে খুনিরা, একদিকে যুদ্ধপরাধী তারাই ছিল ক্ষমতায়। কাজেই সেখানে আমি ফিরে এসেছিলাম। বাংলাদেশের মানুষের জন্য পরিবর্তন করার জন্য দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং এদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করা”।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সরকারে আসার পর দেখলাম পুলিশের বাজেট ছিল অত্যন্ত কম মাত্র চার শত কোটি টাকার মত। সেটাকে আমরা আট শত কোটি টাকা করে দিয়েছি। পুলিশের বাজেট বৃদ্ধি করেছি, রেশন বৃদ্ধি করেছি। পুলিশের জন্য স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। পুলিশের ঝুঁকি ভাতা প্রবর্তন করি। তাছাড়া সমগ্র বাংলাদেশে ২৫টি থানা ৮৬টি তদন্ত কেন্দ্র ৫৮টি হাইওয়ে ফাঁড়ি ১০০টি পুলিশ ক্যাম্প ও ১০টি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করেছি। কমিউনিটি পুলিশ গঠন করে জনগনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা যাতে রক্ষা করতে পারি সে ব্যবস্থা আমরা নেই”।

তিনি বলেন, “২০০৮ নির্বাচনে জয়লাভ করে ২০০৯ সালে যখন আবার সরকার গঠন করি তখন পুলিশের বেতন ভাতা যেমন বৃদ্ধি করেছি সেই সাথে পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে মোট ৮২ হাজার ৫৮টি নতুন পদ সৃজন করেছি। পুলিশের জন্য নতুন ইউনিট নতুন পদ সৃজন করেছি যেমন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, পিবিআই, এন্টি টেরোরিজম, সিটিটিসি, রংপুর ও ময়মনসিংহ রেঞ্জ এবং রংপুর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট গঠন করেছি। সিআইডিতে সাইবার পুলিশ সেন্টার গঠন করেছি। আমরা দুটি সিকিউরিটি এন্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, এয়ারপোর্টে একটি, কক্সবাজার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র‌্যাবের জন্য তিনটি ব্যাটালিয়ন, ৩০০টি ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, ৬২টি থানা, ৯৫টি তদন্ত কেন্দ্র এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ গঠন করেছি। প্রত্যেকটি থানা যেগুলো জরাজীর্ণ ছিল সেগুলো নতুনভাবে গঠন করা হয়েছে যাতে পুলিশ সুন্দরভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে। স্বাধীনতার পর আইজিপির র‌্যাংক যেটা জাতির পিতা দিয়েছিলেন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক শাসকরা কেড়ে নিয়েছিল আমরা পুনরায় আইজিপির র‌্যাংক ব্যাজ প্রবর্তন করি। গ্রেড ১- ২টি, গ্রেড ২-১১টি, ডিআইজি-৫২টি, অতিরিক্ত ডিআইজি-১৫৯টি, পুলিশ সুপার-৪০২টি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-৮০০টি পদ নতুনভাবে সৃজন করি। ২১৫টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদকে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে, ২০৩টি সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পদকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে, এসআই ও সার্জেন্ট পদকে ৩য় শ্রেণি হতে ২য় শ্রেণিতে, ইন্সপেক্টর পদকে ২য় শ্রেণি হতে ১ম শ্রেণির নন ক্যাডার পদে উন্নতি করেছি”।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংশোধিত নিয়োগ বিধিমালার আলোকে স্বচ্ছতার সাথে ৩০০০ অধিক কনস্টবল নিয়োগ করা হয়েছে। আকাশ পথে সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে ২টি হেলিকপ্টার ক্রয় করা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২২টি নতুন ব্যারাক ১০০টি একাডেমি ভবন, বিভিন্ন ইউনিটের জন্য ১৪৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, ৬০ টি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ সম্প্রসারণ রাজস্ব বাজেট থেকে ৭২টি থানা নির্মাণ, ২৮টি ফাঁড়ি, ১৫টি তদন্ত কেন্দ্র, ৩৩৭টি থানার হেল্প ডেস্ক, ৪৫টি হাইওয়ে আউট পোস্ট ভবন সম্প্রসারণ, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২১১টি আধুনিক থানা ভবন নির্মাণ, ৯৫টি থানা মডেল থানায় উন্নিতকরণ, ২১টি ব্যারাক ভবন, ৬০টি তদন্ত কেন্দ্র নির্মাণ করেছি। অপরাধ তদন্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সন্নিবেশ করা হয়েছে। এখন পুলিশ বাহিনী প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন পুলিশ বাহিনীতে উন্নিত হয়েছে, শতভাগ রেশন ব্যবস্থা করে দিয়েছি এবং চাকুরিরত অবস্থায় কেউ যদি মৃত্যুবরণ করে বা গুরুত্বর আহত হয় তাদের আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাজারবাগে ১০তলা ভবন করে সেখানে পুলিশের জন্য আলাদা হাসপাতাল করে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক হাসপাতাল করার পরিকল্পনা র‌য়ে‌ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com