1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন

২০ বছর পর বা‌চেনা খাতু‌নের পেট থে‌কে বের করা হল কাঁ‌চি

নাগরিক খবর অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৪৮ বার পঠিত

অস্ত্রোপচারের পর পেটে সার্জিক্যাল আর্টারি রেখে দেন চিকিৎসক। এভাবে চলে দীর্ঘ ২০ বছর। অবশেষে সোমবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই সার্জিক্যাল আরটারি অপসারণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নাগ‌রিক খবর‌কে নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন। তার তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাচেনা খাতুন। বাচেনা খাতুন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি দেশের গণমাধ্যম গুলোতে অসুস্থ বাচেনা খাতুনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকে মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগে হইচই পড়ে যায়। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।

গত ৪ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন বাচেনা খাতুন। এরপর থেকে পেটের যন্ত্রণা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। ডায়াবেটিস পরীক্ষাসহ খাবার কিনতে কিনতে একেবারে নিঃস্ব তিনি। যে ক্লিনিক থেকে অপারেশন করা হয়েছিল সেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সব খরচ বহনের আশ্বাস দিলেও দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন বাচেনা খাতুন। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিকসের কারণে অস্ত্রোপচার বার বার পিছিয়ে যাচ্ছিল। আজ ডায়াবেটিকস পরীক্ষার পর দুপুর ১২টার দিকে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। দুপুর সোয়া একটার দিকে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট (সিনিয়র) ডা. ওয়ালিউর রহমান জনবাণীকে বলেন, ৪ জানুয়ারি থেকে বাচেনা খাতুনকে আমরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিকসের জন্য অস্ত্রোপচার পিছিয়ে যাচ্ছিল। ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণ থাকায় আজ তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তার পেট থেকে সার্জিক্যাল আর্টারি আপসারণ করা হয়েছে।

বাচেনা খাতুনের স্বজনেরা বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর যাবত বাছেনা খাতুন কষ্ট করে গেছেন। অপারেশনের পর থেকেই শুরু হয় তীব্র ব্যাথা। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা গুরুত্ব দেননি। চিকিৎসা করতে গিয়ে হতে হয়েছে নিঃস্ব। চিকিৎসকের ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে দীর্ঘ ২০ বছর। তাকে চিকিৎসা প্রদানসহ ক্ষতিপূরণের দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।

উল্লেখ্য, সহায়-সম্বল বিক্রি করে ২০০২ সালের ২৫ মার্চ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাজা ক্লিনিকে পিত্তথলির পাথর অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন বাচেনা খাতুন। অস্ত্রোপচার করেছিলেন সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মিজানুর রহমান। তার সঙ্গে সহকারী হিসেবে ছিলেন রাজা ক্লিনিকের পরিচালক ডা. পারভিয়াস হোসেন রাজা ও অ্যানেস্থেসিয়া করেন ডা. তাপস কুমার।

অস্ত্রোপচারের এক সপ্তাহ পর বাচেনা খাতুনকে প্রেসক্রিপশন দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু সুস্থ হতে পারেননি। পেটের ব্যথা নিয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় বছরের পর বছর ডাক্তারের কাছে ছুটেছেন তিনি। খুইয়েছেন অর্থ-সম্পদ। অবশেষে ২০-২৫ দিন আগে রাজশাহীর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করালে পেটে কাচির সন্ধান পাওয়া যায়। এটিকে মূলত মেডিকেলের ভাষায় সার্জিক্যাল আরটারি বলা হয়। এ নিয়ে এলাকায় হইচই পড়ে।

অস্ত্রোপচারের সময় পেটের মধ্যে সার্জিক্যাল আরটারি রেখেই সেলাই করে দিয়েছিলেন চিকিৎসক। পুনরায় ডা. রাজার শরণাপন্ন হলে তিনি ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা বলে ফেরত পাঠান। চিকিৎসকের কাছে পাত্তা না পেয়ে বাচেনার পেটের যন্ত্রণা বাড়তেই থাকে। পরে আবার ডা. রাজার সঙ্গে দেখা করেও কোনো লাভ হয়নি। পরে সুস্থ হতে বিভিন্ন এলাকার চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন বাচেনা খাতুন। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিতে বিক্রি করতে হয় শেষ সম্বল দুটি গরু।

এদিকে ৫ জানুয়ারি অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর সিভিল সার্জন জাওয়াহেরুল ইসলাম। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গাংনীর সেই রাজা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এই কর্মকর্তা। জনবানী

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com