1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৬:২২ অপরাহ্ন

কুমিল্লায় হলুদ রঙের তরমুজ চাষ- ভাল ফল‌নে কৃষকের মুখে হাসি

সাইফুল ইসলাম ফয়সাল:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৫৬ বার পঠিত
কৃষক আ‌নোয়া‌রের জ‌মি‌তে চাষকৃত হলুদ তরমু‌জ

সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো। সূর্য ঠিক তখন মাথার উপর, কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম বলরামপুর, গ্রামটি সীমান্তবর্তী এলাকা হলেও মনে হয় যেন কৃষিনির্ভর উত্তরবঙ্গের প্রাচীনতম সুন্দর গ্রাম। মৃদু রোদে দূর থেকে মনে হয় এ যেন এক কৃষির জনপদ। শত শত একর জমি জুড়ে বিভিন্ন মৌসুমি শাকসবজি মাঠ। এ যেন এক কৃষির সামহার।বলরামপুর গ্রাম জুড়ে এমন বৈচিত্রময় দৃশ‌্য দেখতে স্থানীয় গণম্যাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছে দর্শনার্থীরা।

হলুদ তরমুজ কেমন এই নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে কৌতুহলের শেষ নেই। সবুজের মাঝে তরমুজের ঝলকানিতে হলুদ রঙে ঝলমল করছে চারপাশ।পুরো এলাকাজুড়ে এখন বইছে হলুদ তরমুজের সু-বাতাস।

কৃষক কাজী আনোয়ার হোসেন। বৈশাখের মাঝামাঝি সময়। গ্রীষ্মের রসালো ফল তরমুজ। এই গরমে তৃষ্ণা মেটাতে তরমুজের কোনো জুড়ি নেই। আছে অনেক স্বাস্থ্যগুণও। রসালো এই হলুদের রঙের ফল কুমিল্লার এ প্রথম চাষ করেছেন বলরামপুর গ্রামের কৃষি আনোয়ার হোসেন।

বিদেশি জাতের এ হলুদ তরমুজটি থ্যাইল্যান্ডের ইয়োলো কিং বলা হয়। এটি বারোমাসিই চাষ করার উপযোগী। পোকা-মাড়ক শীতে সমস্যা করলেও নিয়মিত পরির্চযা ঐ সময় ভালো ফলন পাওয়া যায়। রং বদলালেও এই তরমুজের স্বাদ কিন্তু বদলায়নি বরং এ তরমুজ কড়া মিষ্টি ও সুস্বাদু।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আনোয়ার হোসেনের এর জমির চারপাশে নেটে দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। মাচা পদ্ধতিতে হলুদ রংয়ের তরমুজ চাষ করা হয়েছে। প্রতিটি মাচা নেট দ্বারা আব্রত । পোকা-মাকড় আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য মাচার মাঝখান দিয়ে ফেরোমেন ও ইয়েলো ট্যাপ লাগানো। মাচার ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় শতশত তরমুজ। তরমুজে মাচাগুলো ভরপুর।

প্রতিটি গাছে চার থেকে পাঁচটি করে ঝুলে আছে।একেকটি তরমুজ এক থেকে দেড় কেজি ওজনের মতো হবে। প্রত্যেকটি নেট দ্বারা আবৃত করে রাখা হয়েছে।আবার ছোট ছোট তরমুজ গুলো নেট ছাড়া আছে।

জানা গেছে, কৃষক কাজী আনোয়ার হোসেন এই বছর ২০ একর হলুদ রঙের ইয়োলো কিং ও ৪৫ একক ব্ল্যাক বেবি,ব্ল্যাক সুইট-২ তিন প্রজাতির তরমুজের চাষ করেছিলেন। হলুদ তরমুজ, কালো তরমুজ ও সাদা তরমুজ। সবগুলো প্রজাতির তরমুজের ফলও ভালো হয়েছে। জমিতে মাচা তৈরি করে উঁচু বেডের মাটি মালচিং পলিথিনের শিট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তার মাঝে গোল করে কাটা স্থানে তরমুজ গাছ গুলো রোপন করছেন। মাচাতে ঝুলছে বিভিন্ন প্রজাতির তরমজু। যাতে ছিঁড়ে না যায় তার জন্য নেটের ব্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিটি তরমুজে।

কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, গত বছর আমি প্রথম ব্ল্যাক সুইট-২ নামের তরমুজটি চাষ করছি। এতে আমরা ৩৫ হাজার টাকার খরচ হলেও তরমুজ বিক্রি করে আমার ২ লক্ষ টাকা লাভব হয়েছে। হলুদ রঙের তরমুজ চাষের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ইউটিউব দেখতে দেখতে হলুদ তরমুজ চাষ করা পদ্ধতি আমার ইউটিউবে আসে। বিষয়টি আমি বার বার দেখার পর হলুদ রঙের এই ফল চাষের আগ্রহী হই। পরে সিরাজগঞ্জ জেলার কৃষক শাহিন আলমের নাম্বার ইউটিউব থেকে নিয়ে তাকে কল দিয়ে এই বিষয় বিস্তারিত জানি।এবং ওনার সহযোগিতা ও পরামর্শে এই বছর ২০ এক জমিতে হলুদ রঙের তরমুজের চাষ করি। ফলনও ভালো হয়েছে। সব মিলে এবার প্রায় ১০ লক্ষ টাকার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি। বীজ ও শ্রমিক সহ সবমিলে আমার ১ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত মাসের ২০ তারিখে চারা রোপন করছি। আশা করি আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে তরমুজ কাটতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, হলুদ তরমুজ চাষ একটি কঠিন হলেও, সঠিক পরিচর্যা করলে সহজে লাভবান হাওয়া যায়, মূল আমরা মাচা তৈরি করে তাতে সুতা বেঁধে দেই তরমুজে। যাতে বড় হলে নেটের ব্যাব দিয়ে সুতায় ঝুলিয়ে দেই। এবার তরমুজ হলুদ হলেও এটির ভিতরে লাল ও স্বাদে মিষ্টি হয়। কুমিল্লার নয় শুধু আমি চট্টগ্রামে বিভাগের মধ্যে একমাত্র হলুদ তরমুজ চাষ করেছেন। কুমিল্লাতে আগে কখনো কেউ এই তরমুজ চাষ করে বলে শুনেনি। তরমুজের ক্ষেতের চার পাশের বিভিন্ন ধরনের সবজি লাগাইছি। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমি আরো বড় পরিসারে হলুদ তরমুজ চাষ করে স্থানীয় চাহিদা মিটে বিদেশে রপ্তান্তি করতে চাই।

একই এলাকায় স্থানীয় কৃষক রমজান আলী বলেন, বাজারে এই তরমুজের দামও ভালো।আনোয়ার এমন উদ্যোগ দেখে আমি চিন্তা করছি আগামী বছর হলুদ তরমুজ চাষ করবো। শুনছি এই ফলে নামি কম খরচে আয় বেশি। এছাড়া তার তরমুজ আশেপাশে এলাকায় মানুষ কাছে বিক্রি হয়ে যায়,বাড়তি কোনো পরিবহন খরচ লাগে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, তরমুজ চাষের জমিটি পরিদর্শন করেছি। আমরা তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করছি। এবং আগামী তাকে হলুদ তরমুজের আরো সহযোগিতা করবো। সামনে আর কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে আনোয়ারে তরমুজ এখনো ভালো ফলন হবে। এই হলুদ তরমুজ চাষ কুমিল্লাতে প্রথম। তার ফসল তোলার সময় মৌসুমী তরমুজ কমে আসবে। সে কারণে আনোয়ার ভালো দাম পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com