1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৫:০৭ অপরাহ্ন

‌কু‌মিল্লার গোমতী এখন বালু শূন‌্য- বন্ধ হ‌চ্ছে ইজারা : অব‌্যাহত অ‌ভিযান

আশরাফ উ‌দ্দিন:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১
  • ২৪৭ বার পঠিত

মা‌টি খে‌কো‌দের হাত থে‌কে গ্মেতী নদী রক্ষা কর‌তে বালুমহাল ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে কু‌মিল্লা জেলা প্রশাসন। আগা‌মি মাসের বাংলা চৈত্র মাস পর্যন্ত বর্তমান বৈধ বালুমহালগুলোর ইজারার মেয়াদ রয়েছে। মেয়াদ শে‌ষে নতুন করে সরকারিভাবে বালুমহাল ইজারা দেওয়া বন্ধু রাখার চূড়ান্ত সিদ্বান্ত গ্রহন ক‌রে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাঈদ বলেন, গোমতী নদী‌তে বালু উত্তোলন করার মত বালু নেই। যার কারণে মাটিখেকোরা এখন কৃষি জমির মাটি লোপাট করছে। চলমান ইজারার মেয়াদ শেষ হলে বিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে গোমতী নদীতে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে করা হবে। সার্ভেতে নদীতে বালু না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই আগামীতে গোমতীর বালুমহাল ইজারা বাতিল করা হবে।

সম্প্রতি গোমতী নদী ও নদীর চরের কৃষি জমি রক্ষায় দিন-রাত অভিযান শুরু করে কু‌মিল্লা জেলা প্রশাসন। চল‌তি মা‌সের ২০ মার্চ থেকে গোমতীকে  রক্ষা কর‌তে মাসব্যাপী ২৪ ঘণ্টা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ ও জনি রায় ২০ মার্চ সদরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি ট্রাক্টর জব্দ করেন। পৃথক অভিযানে জেলার দেবিদ্বার চরের কৃষি জমির মাটি কাটায় ব্যবহূত তিনটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এর আগে ১৭ ও ১৮ মার্চ রাতভর অভিযানে ১০টি ড্রাম ট্রাক ও একটি ভেকু জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি জমির মাটি উত্তোলনে জড়িত সাতজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০০৫ সালে গোমতী নদীর বালুমহাল সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া শুরু হয়েছিল। দেশজুড়ে গোমতীর বালুর বেশ চাহিদা থাকায় ইজারাদার ও মা‌টি‌খে‌কো মা‌ডি ম‌তিন, টুটুল শুরু থেকেই বেপরোয়া হয়ে পড়েন বালু উত্তোলনে। গোমতী নদীর কুমিল্লা সদর উপজেলার অংশে সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া ছয়টি বালুমহাল রয়েছে। এ ছাড়া জেলার বুড়িচং উপজেলার অংশে রয়েছে আরও একটি। প্রতি বছর বাংলা সনের বৈশাখ মাসে এসব বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে কয়েক বছর থেকেই বৈধ ওই সাতটি বালুমহাল ছাড়াও কয়েকশ স্থান থেকে বালু উত্তোলন শুরু করেন প্রভাবশালী বালুখেকোরা। এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়ে ঐতিহ্যবাহী গোমতী।

এদিকে, এ বছর অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন বালু-মাটিখেকোরা। নদী গিলে খাওয়ার পর চরের কৃষি জমিও খেতে শুরু করেন তারা। কুমিল্লা অংশে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর বেশিরভাগ স্থানেই চরের কৃষি জমি এখন ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে ভেকু আর কোদালের আঘাতে। এর ম‌ধ্যে টীক্কারচর ব্রীজ এর ঢা‌লে মা‌টিদস‌্যু ম‌তিন মিয়া , শুভপু‌রের টুটুল গোমতীর মা‌টি লুটপাট ক‌রে কো‌টি কে‌টি টাকার মা‌লিক ব‌নে গে‌ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম বলেন, গোমতী নদী আমাদের কুমিল্লা তথা দেশের সম্পদ। গোমতীর অস্তিত্ব রক্ষার দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের।চলমান অভিযানকে আমরা সাবাই স্বাগত জানাই। তবে এই অভিযানকে সফল করতে হলে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের ক্ষমতার ঊর্ধ্বে থেকে প্রশাসনকে কাজ করতে হবে। আমরাও চাই বালুমহাল ইজারার নামে গোমতী ধ্বংস বন্ধ হোক। এই ইজারা গোমতীর জন্য ‘বিষফোড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাঈদ জানান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান সম্প্রতি সরেজমিনে রাতের বেলায় গোমতীর মাটি উত্তোলনের দৃশ্য দেখার পর এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। স্যারের নির্দেশনায় আমরা আগামী এক মাস ২৪ ঘণ্টা গোমতী ও চরের কৃষি জমি রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করে যাব।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com