1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগের অজানা গল্প: সজীব ওয়া‌জেদ জয়

নিজস্ব প্রতি‌বেদক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৬৬ বার পঠিত

পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানো হয়েছে গেল বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর)। এর মাধ্যমে স্বপ্নের সেতু নিয়ে দেশজুড়ে এক বিরাট আশার সঞ্চার হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া এবং এগিয়ে চলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তার প্রশংসা করছেন তার অনেক সমালোচকও।

তবে এই সেতু নির্মাণ নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে একজন মন্ত্রীকে পদ ছাড়তে হয়েছে। সচিবকে কারাগারে যেতে হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ আদালতে ‘গুজব’ প্রমাণিত হয়। অভিযোগ থেকে কানাডার মন্ট্রিলভিত্তিক প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সাবেক তিন কর্মকর্তাকেও নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।
পদ্মা সেতু নিয়ে প্রথম শঙ্কা তৈরি হয় ২০১১ ও ২০১২ সালে। এ সময় বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের নির্মাণকাজ তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন কানাডার একটি কোম্পানি এসএনসি-লাভালিন’র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংকসহ একাধিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা চুক্তি স্থগিত করে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি) ২০১২ সালের ৩০ জুন এক খবরে উল্লেখ করে, ‘বিশ্বব্যাংক বলছে, সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা, কানাডার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের মধ্যে যোগসাজশে বিভিন্ন সূত্র থেকে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। এসব তথ্য-প্রমাণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, (তৎকালীন) অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে দেয়া হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এবং ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে এসব তথ্য-প্রমাণ দেয়া হয়।’
তবে বিশ্বব্যাংকের এসব অভিযোগ প্রথম থেকেই প্রত্যাখ্যান করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তাতে কান দেয়নি বিশ্বব্যাংক। শেষ পর্যন্ত ২০১২ এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের এমন বিস্ময়কর ঘোষণার আগের দিন গোটা দুনিয়াকে হতবাক করে দিয়ে পদ্মা সেতুর মত বৃহৎ প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।
তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে জল ঘোলা হওয়া থামেনি। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয় কানাডার আদালতে। সেখানে পুরো অভিযোগটিই গুজব প্রমাণিত হয়।
এ বিষয়ে ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে কানাডার আদালত একাধিক রায় দেন। একাধিক মামলা ছিল। যোগাযোগ মন্ত্রী, যোগাযোগ সচিব ও কানাডিয়ান কোম্পানি নাভানিলের বিরুদ্ধে মামলা ছিল। এর মধ্যে সবাই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে। সব শেষ রায়ে কানাডার আদালত বলে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা জল্পনা, গুজব আর জনশ্রুতি ছাড়া কিছুই না।
তবে গুজবের ওপর ভরসা করে এত বড় ষড়যন্ত্র বা মামলা কীভাবে আসে তা নিয়ে ওই সময় প্রশ্ন তোলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘রাজনীতিতে সত্য-মিথ্যা; পদ্মা সেতুর অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
সেখানে সজীব ওয়াদের জয় বলেন, কিছু বিষয় আপনারা অনেকেই জানেন না। সেগুলো কখনো খবরে আসেনি। ২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নরওয়ের একটি টেলিভিশন চ্যানেল তদন্ত করে বের করে গ্রামীন ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। এর বেশিরভাগ অর্থ নরওয়ের অনুদান। এজন্য তাদের মাথা ব্যথা। পরে সরকারও তদন্ত করে সত্যতা পায়। কিন্তু তখন নরওয়ে সরকার একটি চিঠি দিয়ে বলে টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।
জয় বলেছিলেন, তারা বলেনি যে টাকা চুরি হয়নি। তারা বলেন, ফেরত দেয়া হয়েছে। তবে তারা ফেরত দেয় মাত্র ৩০ মিলিয়ন ডলার। পরে খবরে বের হয় যে, গ্রামীন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইউনুস চিঠি লেখেন নরওয়ে সরকারকে। তিনি লেখেন, তোমরা কিছু করো, না হলে আমার সর্বনাশ হয়ে যাবে। তিনি বলেননি এটা মিথ্যা। তিনি বলেন, আমাকে বাঁচাও।
তিনি আরও বলেছিলেন, পদ্মা সেতুতে যখন প্রথম আমাদের সরকারের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ করা হল তখন কিন্তু প্রকল্প শুরু হয়নি। বিশ্বব্যাংক তখন একটি পয়সাও বিতরণ করেনি। যেখানে কোনো টাকা খরচ হয়নি সেখানে দুর্নীতি হয় কীভাবে? এজন্য বিশ্বব্যাংক বলা শুরু করল, দুর্নীতি হতে পারে। তখন আমরা তাদের কাছে তথ্য চাইলাম। তারা একটি ডায়েরির পাতা দিল। সেটার কোনো ভিত্তি নাই। এমন পাতা যে কেউ হাতে লিখে দিতে পারে।
জয় বলেন, বিশ্বব্যাংকের তদন্তকারী ছিল ওকাম্পো। তার বিরুদ্ধে এখন দুর্নীতির তদন্ত চলছে। তিনি আমাদের দুদককে এই এক ডায়েরি ছাড়া আর কোনো তথ্য দিতে পারেনি। কিন্তু এই ওকাম্পো দুদকে বসে জোর গলায় দাবি করেন, আবুল হোসেন মন্ত্রী ও সেতুসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে আজকেই গ্রেফতার করতে হবে। সেদিন রাতে আমাদের আইনমন্ত্রী গণভবনে আসেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে। তখন তিনি এসব কথা জানান। তখন দুদকের চেয়ারম্যান ওকাম্পোকে বলেন, এই যে তথ্য তার ভিত্তিতে আমি একজন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করতে পারি না। এখানে কোনো তথ্য-প্রমাণ নাই। আমাকে আরো তথ্য দিন। তখন ওকাম্পো দুদকের চেয়ারম্যানকে হুকুম দিচ্ছিল। অথচ তার বিরুদ্ধেই আজকে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com