1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
H H H H H H H H H H

দিনাজপুর ঘোড়াঘা‌টে জাহাঙ্গীর বা‌হিনীর কর্মকা‌ন্ডে অ‌তিষ্ট এলাকাবাসী

রংপুর সংবাদদাতা:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২১৯ বার পঠিত

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে ছিলেন স্থানীয়রা। ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনায় র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ায় মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় এমন কর্মকাণ্ড চালাতেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে ইউএনও বাঁধা হওয়ায় হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে আসা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

ঘোড়াঘাট উপজেলা জুড়ে জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনী সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখল, বালুমহল ও মাদক-ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ অসংখ্য অভিযোগ স্থানীয়দের। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, মাদকসহ একাধিক মামলা। এই জাহাঙ্গীর বাহিনীর অন্যতম সদস্যরা সিংড়া ইউপি যুবলীগের সভাপতি মাসুদ রানা ও নৃশংস হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি যুবলীগ সদস্য আসাদুল ইসলাম। মাসুদের রয়েছে বালুমহল ব্যবসা। কিছুদিন আগে ইউএনও বালু উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করে দেয়।

 

এদিকে র‌্যাব হেফাজত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাড়িতে নেই জাহাঙ্গীর। ফলে নতুন করে আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষদের মাঝে।
স্থানীয় বাবু নামের একজন বলেন,  ‘এই জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আসাদুল মাসুদ গং জমিদখল, চাঁদাবাজি, হামলাসহ অনেক ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করেই আসছে। এই জাহাঙ্গীরের এতসব অপকর্ম এখন পর্যন্ত কোনও ঊর্ধ্বতন নেতাদের চোখে এতদিন পড়েনি। আজ যখন সংসদ সদস্য তাদের একের পর এক ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবর চিঠি দিলেও কোনও সাড়া আমরা পাইনি।’
পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভুট্টো বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এর আগে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলনের ওপরে একটা বিষয় নিয়ে তারা হামলা চালিয়েছিল যার কারণেই হয়তোবা ধারণা আসতে পারে ইউএনওর ওপর হয়তো বা ওই বাহিনীই হামলা করতে পারে এতটুকুই। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইউএনওর ওপর হামলা করবে কেউ তাও আবার হত্যার উদ্দেশ্যে এটা আমার জানা মতে হওয়ার কথা না। যদি ডাকাতির উদ্দেশ্যে হতো তাহলে মালামাল নিয়ে যেতো। কিন্তু ইউএনওর ওপর যেভাবে হামলা করা হয়েছে এটি হত্যার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।

মামুন নামের একজন বলেন, ‘যেখানে উপজেলা পর্যায়ের একজন সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হয়েও সরকারি কর্মকর্তার নিরাপত্তা নেই সেখানে আমরা সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপত্তা হিসেবে থাকি। আসাদুল দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সিএনজি অটোরিকশা ও ভ্যান থেকে চাঁদা আদায় করতো। সরকারি দলের কোনও নেতার ছত্রছায়ায় সে এসব কিছু করতো। আমরা অনেক দিন ধরেই তাদের এমন কর্মকাণ্ড দেখছি। র‌্যাবের হাতে জাহাঙ্গীর আটক হওয়াতে এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও র‌্যাব তাকে ছেড়ে দেওয়ায় মানুষ আতঙ্কিত বিশেষ করে যারা তাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে যারা আটক হয়েছে তারা যদি প্রকৃত অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।’

ওবায়দুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি ২০১৭ সালে উপজেলার বেলুয়া মৌজায় ফুটানিবাজার নামক স্থানে তিন একর জমি কিনি। সেই সময় থেকেই জাহাঙ্গীর ও মাসুদ সেই জায়গাটিতে দোকান দিয়ে জায়গাটি দখল করে রাখছে। থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা রয়েছে। এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি। তারা আমাকে সেখানে যেতেই দেয় না। আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করে, যার কারনে আমি যেতে সাহস পাচ্ছি না।ঘোড়াঘাট পৌরসভার মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন বলেন, ‘জাহাঙ্গীর ও আসাদুল বাহিনীর দ্বারা আমি নিজে সরকারি ত্রাণ ও এমপি ব্যক্তিগত ত্রাণ বিতরন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলাম। এ ঘটনায় একটি মামলাও রয়েছে।’
ঘোড়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাফে খন্দকার শাহানশাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যে বিষয়টি ঘটেছে সেটি নিয়ে মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত করছে। ইতোমধ্যেই অনেকে আটক হয়েছে, যারা দোষী তারা দোষী সাব্যস্ত হবেন তারা যেই হোক। কিন্তু দায় আমি এড়াতে পারি কিনা এটাতো আপনার তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কেউ যদি অপরাধী প্রমাণিত না হয় তার আগে তো কোনোকিছু বলার নেই। বরং যারা তারা তদন্ত করছেন এর আগে এ বিষয়ে আমাদের কোনও মন্তব্য না করাই উচিত। তবে আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আর আমি দলের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান যে কেউ আমার কাছে আসতে পারে। কিন্তু আমি কোনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেই না। সেটা খোঁজ নিলেও জানতে পারবেন।

দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিক বলেন, ‘আমি এই ছেলেদের কর্মকাণ্ড দেকে গত ৬ জুন ডিও লেটার দিয়েছি জেলা যুবলীগ ও কেন্দ্রীয় যুবলীগকে। আজকে যাদের ছত্রছায়ায় এই কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালিত হয়েছে।বিশেষ করে সেই যুবলীগের আহ্বায়ক কেন্দ্রীয়ভাবে তাকে ইতোমধ্যেই বহিষ্কার করা হয়েছে। যারা যারা আসামির মধ্যে রয়েছেন তাদেরকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তো এটা যদি আরও আগে করা হতো তাহলে আজকে যে কথা শোনা যাচ্ছে যুবলীগের নেতা জড়িত এই কথাটা কিন্তু আমাদের শুনতে হতো না। দেশবাসীসহ আমরাও জানতে চাই এটার শেষ কোথায়

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com