1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
H H H H H H H H H H

চল‌তি বছ‌র সারাদে‌শে মোটরসাই‌কেল দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৯৭

নাগরিক খবর অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২
  • ৬০ বার পঠিত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ২ হাজার তিনটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৭ জন নিহত হয়েছে, আহত ১ হাজার ২৮৬ জন। গত বছরের তুলনায় বাইক দুর্ঘটনা বেড়েছে ২১ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং প্রাণহানি ১৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।

রবিবার (২০ নভেম্বর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে (জানুয়ারি-অক্টোবর) এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, সাতটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ (৩৪৭ জন) ১৩-১৭ বছর বয়সী এবং ৭৩ দশমিক ১০ শতাংশ (১ হাজার ৫৩৩ জন) ১৮-৫০ বছর বয়সী। দুর্ঘটনায় ৭৬৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৯২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

দুর্ঘটনার ধরন

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্য যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ৩৭৪টি (১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ), মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬২৯টি (৩১ দশমিক ৪০ শতাংশ), মোটরসাইকেলে অন্য যানবাহনের চাপা ও ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৯৫৮টি (৪৭ দশমিক ৮২ শতাংশ) এবং অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪২টি (২ দশমিক ০৯ শতাংশ)।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও পথচারী

দুর্ঘটনাগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮৩৭টি (৪১ দশমিক ৭৮ শতাংশ) দুর্ঘটনার জন্য মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী। বাস চালক দায়ী ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ (১৬৯টি দুর্ঘটনা), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি চালক দায়ী ৩৭ দশমিক ০৪ শতাংশ (৭৪২টি দুর্ঘটনা), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস চালক দায়ী ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ (৫৬টি দুর্ঘটনা), থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-অটোরিকশা-অটোভ্যান-নসিমন-ভটভটি-টমটম) চালক দায়ী ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ (১১৯টি দুর্ঘটনা), প্যাডেল রিকশা ও বাই-সাইকেল চালক দায়ী ০ দশমিক ৮৪ শতাংশ (১৭টি দুর্ঘটনা) এবং পথচারী দায়ী ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ (৬৩টি দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন:’

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৬৯৫টি (৩৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ৮৭৯টি (৪৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৩২৯টি (১৬ দশমিক ৪২ শতাংশ ) গ্রামীণ সড়কে এবং ১০২টি (৫ দশমিক ০৯ শতাংশ) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনসমূহের সংখ্যা:

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৩ হাজার ৫৬১টি। মোটরসাইকেল ২ হাজার ১৩৩টি, বাস ২১৪টি, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ৭৫৬টি, ড্রামট্রাক-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ইত্যাদি ১২৯টি, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার ১০৩টি, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-অটোরিকশা-অটোভ্যান-নসিমন-ভটভটি-টমটম) ২০৭টি এবং প্যাডেল রিকশা ও বাই-সাইকেল ১৯টি।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ:

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে ভোরে, সকালে ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ, দুপুরে ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ, বিকালে ১৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং রাতে ২৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণ:

কিশোর-যুবকদের বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানো; অতি উচ্চগতির মোটরসাইকেল ক্রয়ে সহজলভ্যতা ও চালনায় বাধাহীন সংস্কৃতি; মোটরযান চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির শিথিলতা প্রভৃতিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

দুর্ঘটনা কমাতে সুপারিশ:

কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে; মাত্রাতিরিক্ত গতিসম্পন্ন মোটরসাইকেল বিক্রি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে; গণপরিবহন চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে; বিআরটিএ’র সক্ষমতা বাড়াতে হবে; ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; মোটরসাইকেল ও স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ করতে হবে; পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে; যানবাহনের গতি মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে; গণপরিবহন উন্নত ও সহজলভ্য করে মোটরসাইকেল নিরুৎসাহিত করতে হবে; রেল ও নৌ-পথ সংস্কার এবং বিস্তৃত করে সড়ক পথের ওপর থেকে ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের মতো পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ কমাতে হবে; সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে; ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

মন্তব্য

গত বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৬৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৫৮ জন নিহত হয়েছিল। এই হিসাবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে দুর্ঘটনা বেড়েছে ২১ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং প্রাণহানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।

দেশে ক্রমবর্ধমান মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ ঘটছে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ বাস ইত্যাদি ভারী যানবাহনের ধাক্কা, চাপা ও মুখোমুখি সংঘর্ষে। অপরপক্ষে, মোটরসাইকেল চালকদের অধিকাংশই কিশোর-যুবক। তারা চরম বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজেরা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অন্যদের আক্রান্ত করছেন। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। শুধু রাজধানীতেই চলছে ১৫ লাখের বেশি। মানসম্মত গণপরিবহনের অভাব এবং যানজটের কারণে মোটরসাইকেলের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। মোটরসাইকেল ৪ চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য করে মোটরসাইকেলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তা-ই করছে। গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত না করে বিভিন্ন প্রকার সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মোটরসাইকেল বাণিজ্যকে উৎসাহিত করা একটি আত্মঘাতি ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত। বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা আয়ের জন্য ১০ বা ১২ হাজার কোটি টাকার অমূল্য জীবন-সম্পদ হারানোর কোনও মানে নেই। তাই সরকারের উচিত, এখনই মোটরসাইকেল বিপণন ও ব্যবহারের লাগাম টেনে একটি টেকসই জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। বি‌ট্রি

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com