1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

করোনার মধ্যেও রেমিটেন্সে রেকর্ড

নাগরিক অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১
  • ৩৪৭ বার পঠিত

প্রবাসী আয় এসেছে ২৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার
রিজার্ভ ৪৬.৪৩ বিলিয়ন ডলার

মহামারী করোনার মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪.৭৭ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ১০ হাজার ১১৫ কোটি টাকা, যা নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছর বা অর্থবছরে এত বেশি রেমিটেন্স কখনই আসেনি। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের নগদ প্রণোদনা ও করোনায় বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণের কারণে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স বেশি আসছে।

পাশাপাশি মহামারীতে এক ধরনের অনিশ্চয়তার কারণে প্রবাসীরা জমানো টাকা দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবাসীরা ২৪.৮ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। শুধু গত জুন মাসেই তারা পাঠিয়েছেন ১৯৪ কোটি ৮ লাখ ডলার। অর্থবছরের প্রতি মাসেই আগের বছরের একই মাসের চেয়ে বেশি রেমিটেন্স দেশে এসেছে। বছরের ১২ মাসের মধ্যে ৭ মাসেই ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারের বেশি রেমিটেন্স এসেছে। গড় হিসাবে প্রতি মাসে ২ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার করে এসেছে। মহামারীর এই বছরে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে বছরের প্রথম মাস গত বছরের জুলাইয়ে; ওই মাসে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা এক মাসের হিসাবে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আসে মে মাসে, ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স এসেছিল দেশে, যা ছিল এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স। মহামারীর কারণে রেমিটেন্স কমার আশঙ্কা করা হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। গত বছরের মার্চে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এপ্রিল মাসে রেমিটেন্সপ্রবাহে ভাটা পড়ে। ওই মাসে ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছিল দেশে। এরপর আর রেমিটেন্স কমেনি; প্রতি মাসেই বেড়ে চলেছে। রেকর্ডের পর রেকর্ড হয়েছে।অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচকের এই উল্লম্ফন মহামারী মোকাবেলা করতে সরকারকে ‘সাহস জুগিয়েছে’ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে; কল্পনারও বাইরে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা এই কঠিন সময়ে বেশি বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। আমি আবারও এই ভাই-বোনদের কৃতজ্ঞতা জানাই; ধন্যবাদ জানাই।’ রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে ২ শতাংশ প্রণোদনা অবদান রেখেছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী কামাল বলেন, ‘১২ বছর আগে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। আমাদের সরকারের সময়ে তা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে এখন ২৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁই ছুঁই করছে।এই অর্জন নিঃসন্দেহে আর একটি অনন্য ঐতিহাসিক রেকর্ড।’বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবাসীরা সরকারী ৬টি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬১০ কোটি ৬২ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে। বিশেষায়িত একটি ব্যাংকে এসেছে ৪১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বেসরকারী ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে এক হাজার ৮১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আর বিদেশী ৮ ব্যাংকে এসেছে ১১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। বাংলাদেশে কার্যরত ব্যাংকগুলোর মধ্যে গত অর্থবছরে একক ব্যাংক হিসেবে সব চেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে বেসরকারী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে। ব্যাংকটিতে ৭৪৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এর পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮২ কোটি ৩২ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে অগ্রণী ব্যাংকে। ২৪৯ কোটি ডলার রেমিটেন্স এনে তৃতীয় অবস্থানে আছে ডাচ বাংলা ব্যাংক। সোনালী ব্যাংকে এসেছে ১৫৩ কোটি ডলার রেমিটেন্স।বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক হাজার ৮২০ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলের প্রবাসীরা। অর্থবছর হিসাবে ওই অংক ছিল এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আহরণ। তারও আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিটেন্স আহরণের রেকর্ড হয়। ওই সময় এক হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিটেন্স দেশে আসে।বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছিল, কোভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কায় ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার রেমিটেন্স ২২ শতাংশ কমবে। বাংলাদেশে কমবে ২০ শতাংশ। তবে ২০২০ সাল শেষে দেখা যায়, পাশের দেশ ভারতে ৩২ শতাংশ হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে রেমিটেন্স বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর অর্থবছরের হিসাবে রেমিটেন্স বাড়ল আরও বেশি: ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটি বাংলাদেশীর পাঠানো এই অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিটেন্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।রেমিটেন্সপ্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটেও এই প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।রেমিটেন্স বাড়ার প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অর্থ-উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামরীর বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি মনে করি বিশেষ তিনটি কারণে রেমিটেন্স বেশি পাঠাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

এর মধ্যে প্রথমটি হলো- মহামারীতে অনেক প্রবাসী কাজ হারিয়েছেন আবার অনেকের কাজ হারানোর সম্ভাবনা আছে; তাই তাদের সঞ্চিত অর্থ যা ছিল তা দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয় হচ্ছে- সরকারের পক্ষ থেকে দুই শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। যার ফলে অনেকে হুন্ডি না করে বৈধ বা ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাচ্ছেন। এছাড়া করোনার কারণে বিদেশে যাতায়াত কমে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন প্রবাসীরা।

এসব কারণেই রেমিটেন্স বেড়েছে। তবে এটি ধরে রাখতে হলে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে জানিয়ে এ অর্থনীতিবিদ সরকারের উদ্দেশে বলেন, এখনও আমরা যেসব দেশে লোক পাঠাই সেখানকার অবস্থা যদি উন্নত না হয় তাহলে আগামীতে সেখানে প্রবাসী আয় কমে যাবে। তাই দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর জোর দিতে হবে। যাতে প্রবাসে শ্রমিকরা বেশি টাকা আয় করতে পারেন। পাশাপাশি বিদেশে শ্রমিকদের নিরাপত্তায় আমাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে।প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। অর্থাৎ কোন প্রবাসী ১০০ টাকা দেশে পাঠালে তার সঙ্গে আরও ২ টাকা যোগ করে মোট ১০২ টাকা পাচ্ছেন সুবিধাভোগী। এছাড়া ঈদ ও উৎসবে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সকারের প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি এক শতাংশ দেয়ার অফার দিচ্ছে। এতে করে বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন প্রবাসীরা।রিজার্ভ ৪৬.৪৩ বিলিয়ন ডলার ॥ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ভর করে বাংলাদেশের বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েই চলেছে।

সোমবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। গত ২৮ এপ্রিল অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। তবে ৪ মে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। এক মাসেরও কম সময়ে ১ জুন তা ফের ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এক মাসেরও কম সময়ে ২৯ জুন তা আরও বেড়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। এক সপ্তাহে অর্থনীতির এই সূচক আরও বেড়ে ৪৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com