1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন

এবতেদায়ি শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার

নাগরিক অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
  • ৪৯৩ বার পঠিত

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় কানচীপাড়া গ্রামে পাশাপাশি বাড়ি আশরাফুল ইসলাম ও রবিউল আউয়ালের। এর মধ্যে আশরাফুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে। রবিউল আউয়াল এবতেদায়ি মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণিতে। আশরাফুল স্কুলে গেলে দুপুর বেলা পাচ্ছে দুধ, ডিম, বিস্কুট, কখনো কখনো রান্না করা খাবার। আর রবিউল আউয়াল মাদরাসায় পড়ার কারণে এর কোনটিই পাচ্ছে না। কোমলমতি এই শিশু মাঝে মাঝে মন খারাপ করে বাবা রফিকুল ইসলামকে বলে সে মাদরাসায় না স্কুলে পড়বে। সেখানে গেলে খাবার দেয়।

একই দেশে, একই সিলেবাসে পড়াশুনা করলেও আশরাফুল ও রবিউলের মধ্যে শিক্ষা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরাই তৈরি করেছেন বৈষম্য। স্কুলে গেলে শিশুরা পাচ্ছে খাবার, উপবৃত্তির পাশাপাশি শিক্ষা সহায়ক উপকরণ হিসেবে জুতা, পোশাক ও ব্যাগ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। আর শুধু মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার কারণে এর কোনটিই পাচ্ছেনা এবতেদায়ির শিক্ষার্থীরা।

এটি শুধু রৌমারী নয়, এখন দেশের ১০৪টি উপজেলায় এই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। চলতি বছর এটি বাড়িয়ে ২৫০ উপজেলা ও ২০২৩ সালে সারাদেশেই এই বৈষম্য ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২০ জুলাই কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জুন ও জুলাই মাসের সংরক্ষণ করা স্কুল ফিডিং প্রকল্পের বিস্কুট ও মিড-ডে মিলের চাল, ডাল ও ভোজ্যতেল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘মুজিববর্সের উপলক্ষে রান্নাকরা খাবার ও উচ্চ পুষ্টিমানসমৃদ্ধ ফর্টিফাইড বিস্কুট  ১৬ উপজেলার মোট ২ হাজার ২৫৬টি বিদ্যালয়ের ৪ লাখ ২৯ হাজার ৩৪৬ শিক্ষার্থীর মাঝে প্রতি স্কুল দিবসে পরিবেশন করা হচ্ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিস্কুট সরবরাহ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই মিল নীতির আওতায় ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম চালু করা হবে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুলে নেওয়া, প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষার্থীদের এনরোলমেন্ট বাড়ানোর জন্য উপজেলা বাছাই করা হবে। এই প্রকল্পে এবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষার্থীরা অন্তর্ভুক্ত থাকছে না।

অথচ দেশে প্রায় ৬ হাজার স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে, সংযুক্ত এবতেদায়ি মাদরাসা আছে আরও ১০ হাজার। এসব মাদরাসায় কয়েক লাখ শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তরে পড়াশুনা করছে। একাধিক স্বতন্ত্র ও সংযুক্ত এবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, একদিকে স্বতন্ত্র এবেতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না। প্রাথমিকের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিপরীতে তাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে সরকার। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও একই ধরণের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তারা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে শিশুদেরকে দুপুরের খাবার দেয়া হচ্ছে, মাস শেষে উপবৃত্তি পাচ্ছে। কিন্তু মাদরাসায় ভর্তি হলে এর কোনটিই দেয়া হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীরা, বিশেষত দরিদ্র পরিবারের কেউই মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার আগ্রহ দেখায় না। এতে এবতেদায়ি স্তরে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

সংযুক্ত এবতেদায়ি মাদরাসার একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, শিশুরা যখন দেখে পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাবার দিচ্ছে, উপবৃত্তি পাচ্ছেন আর মাদরাসায় পড়ার কারণে পাচ্ছে না তখন তাদের মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা ভেবে নিচ্ছে মাদরাসায় পড়লে অবজ্ঞা করা হয়, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কোন মূল্য নেই। সরকারের কাছে কোন গুরুত্ব নেই। তিনি সরকারকে কোমলমতি শিশুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অবসান করার দাবি জানান।

এদিকে গত ১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মিড ডে মিল প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। সেখানে কেবল প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবার প্রদানের প্রস্তাব করা হয়। ওই প্রকল্পেও উপক্ষিত ছিল এবতেদায়ি শিক্ষার্থীরা। যদিও ১৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকার ওই প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পরবর্তীতে এবতেদায়ি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভূক্ত করার কোন নির্দেশনাও নেই। ফলে মাদরাসায় মিড ডে মিল প্রত্যাশী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির জোগান বাড়াতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৯২ উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার শিক্ষার্থীদের দুপুরে স্কুলে গরম খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। গরম খাবার বলতে মূলত ডাল আর স্থানীয় সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো। ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি ‘প্রাইমারি স্কুল মিল’ শিরোনামের প্রকল্পটির জন্য শুরুতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশনের প্রশিক্ষণ নিতে ১ হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিদেশ সফরের একটি প্রস্তাব ছিল, যা নিয়ে গত বছর ব্যাপক সমালোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত এক হাজার লোকের বিদেশ সফরের ওই অংশটি বাদ দিয়ে প্রকল্প ব্যয়ের পরিমাণ ১ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা কমিয়ে ১৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকা করা হয়। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এ প্রকল্পের পুরো অর্থ জোগানোর কথা ছিল।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে এম রুহুল আমীন বলেন, আমরা এবতেদায়ি মাদরাসায় মিড ডে মিলের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। পরবর্তীতে সেটি কতদূর এগিয়েছে সেটি জানা নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদরাসা) হাবিবুর রহমান বলেন, মাদরাসায় মিড ডে মিলের বিষয়ে কোন আলোচনা এখনো হয়নি। শিক্ষা অধিদপ্তর কোন প্রতিবেদন জমা দিয়েছি কিনা সে বিষয়েও তিনি জানেন না বলে জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com