1. nagorikkhobor@gmail.com : admi2017 :
  2. shobozcomilla2011@gmail.com : Nagorik Khobor Khobor : Nagorik Khobor Khobor
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন

বড় চোরদের দুর্নীতিতে মাথা হেঁট হয়ে যায়

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৭ জুন, ২০২১
  • ২৩৮ বার পঠিত

কর প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো ও ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবি জানালেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই সাংসদ।

দুর্নীতি ও টাকা পাচার বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ নিতে এবার জাতীয় সংসদে দাবি তুলেছেন সরকারি দলেরই এক সাংসদ। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিকখাত সংস্কার এবং ব্যাংক কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছেন সরকার–দলীয় আরেক সাংসদ।

গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংসদ আলী আশরাফ বলেন, বড় চোরদের দুর্নীতি, অর্থ পাচারের কারণে ঘৃণা ও লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। এসব বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা না বাড়ালে, দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম। বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২০’ প্রতিবেদনের তথ্য এটি। যা চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়।

বড় চোরদের দুর্নীতি, অর্থ পাচারের কারণে ঘৃণা ও লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। এসব বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

 

দুর্নীতির বিষয়ে কুমিল্লার চান্দিনা এলাকা থেকে নির্বাচিত সাংসদ আলী আশরাফ বলেন, সরকার বাজেট দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবায়নের জন্য সদিচ্ছা থাকতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা কিছু পাওয়ার আশায় যুদ্ধ করেননি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তাঁরা যুদ্ধ করেছিলেন। সে দেশে দুর্নীতি ও অর্থ পাচার হয়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই)–এর ২০১৯ সালের সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে ২০১৫ সালে ৫৯০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। বর্তমান বাজারদরে (৮৪ টাকা প্রতি ডলার হিসাবে) এই অর্থের পরিমাণ ৪৯ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। আর ২০১৪ সালে দেশ থেকে ৯১১ কোটি ডলার পাচার হয়েছিল। যার পরিমাণ সাড়ে ৭৬ হাজার কোটি টাকা।

সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় গতকাল সংসদে কর প্রশাসনকেও ঢেলে সাজানোর দাবি তোলেন আলী আশরাফ।

তিনি বলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকার সময় ২০১০ সালে উপজেলা পর্যায়ে কর প্রশাসনের কথা বলেছিলেন। ২৫ লাখ লোক কর দেন। করের আওতা আরও বাড়াতে হবে। দক্ষতা বাড়াতে হবে। কর প্রশাসনের দক্ষতা, স্বচ্ছতা, সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা বাড়ানো না গেলে বাজেটে ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। এখন পর্যন্ত করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করে সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রস্তুতি  নেওয়ার আহ্বান জানান আলী আশরাফ। তিনি বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতিতে যে বিপর্যয়ের কথা ছিল, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা মোকাবিলা করেছি। এটা চাট্টিখানি কথা নয়। এটা নিশ্চয়ই সফলতা। সারা পৃথিবী বাংলাদেশে গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করছে। তৃণমূলে প্রণোদনা পৌঁছেছে। মানুষ আজ উদ্বেলিত। সততা থাকলে এটা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সেই সততা আছে।’

সরকারি দলের আরেক সাংসদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, কোভিডের কারণে আয় কমেছে। যে কারণে মূল বাজেটের চেয়ে সম্পূরক বাজেট কমে গেছে। তিনি সামাজিক নিরাপত্তা খাত আরও সম্প্রসারিত করা, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করেন।

একটি ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, সরকার স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। দেশে ব্যাংক ও আর্থিক ব্যবস্থা বেশ প্রসারিত হয়েছে। এই ব্যাংক ও আর্থিক ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।

সরকারি দলের সাংসদ ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, করোনার কারণে অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে চলতি বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমাজের দরিদ্রতম অংশটি। তাদের সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী ও ত্রাণ কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি ও সিপিডির দেওয়া বাজেট প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, সরকারের বড় প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হয়ে এসেছে। এসব দেখে বিএনপি ও সিপিডি ‘আবোলতাবোল বকছে’।

সম্পূরক বাজেটের আলোচনায় বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেন, বাজেট অবাস্তবায়িত থেকে গেছে। কারণ, করোনা বিবেচনায় সরকার বাজেট দিতে পারেনি। সরকারের নীতি এবং ভুল সিদ্ধান্তের কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত রমজানে লকডাউন ছিল। ঈদে মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগে ছিল। যে মানুষ ৫০০ টাকায় সামাজিক দূরত্ব মেনে রাজশাহী যেতে পারত, তাকে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। লঞ্চ বন্ধ করে ফেরিতে মানুষ পারাপার করা হলো। এতে সংক্রমণ বেড়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এগুলো কি সরকারের ব্যর্থতা নয়? সরকারকে কি এসবের দায় নিতে হবে না?

বিএনপির এই সাংসদ দাবি করেন, করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতির শিকার। সরকার সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে যেন ভারতের অবস্থা না হয়, সে জন্য টিকা দিতে হবে। কিন্তু বাজেটে টিকার কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশে টিকার ট্রায়াল দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল চীন ও রাশিয়া। কেন সেটা করা হয়নি, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সাংসদ হারুন বলেন, গত এক বছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যে বরাদ্দ ছিল, তা জনগণের কল্যাণে বা সঠিকভাবে কোভিড নিয়ন্ত্রণে কাজে এসেছে, এ কথা সরকার বলতে পারবে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোরসহ যেখানে সংক্রমণ বেড়েছে, সেখানে অন্তত ১০০ শয্যার হাসপাতালের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে মানুষ রাস্তায় মারা যাবে। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের সংস্কার ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যান্যের মধ্যে সাংসদ আব্দুস শহীদ, তাহজিব আলম সিদ্দিকী, সেলিমা আহমাদ প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল থেকে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সম্পূরক বাজেট পাস হতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com